সূর্য আহমেদ মিঠুন:
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের আপামর জনসাধারণের ভাগ্য উন্নয়নে এবং একটি সমৃদ্ধ ও আধুনিক জনপদ গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছেন রাজপথের লড়াকু সৈনিক আজহারুল ইসলাম মান্নান। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির এই প্রভাবশালী সদস্য এবং সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বর্তমানে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই জননেতা দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নানা প্রতিকূলতা, জেল-জুলুম ও দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় নিজের নেতাকর্মীদের নিয়ে অতন্দ্র প্রহরীর মতো মাঠে ছিলেন, তা এই জনপদে তাকে একজন মানবিক ও সাহসী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আজহারুল ইসলাম মান্নান কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং তিনি সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অধিকার আদায়ের কন্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে মান্নান তার ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন যে, ক্ষমতার লিপ্সা বা ব্যক্তিগত স্বার্থে তিনি কখনো রাজনীতি করেননি; বরং জনগণের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পাওয়াই ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের মূল সার্থকতা। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের দোয়া ও ভালোবাসাই একজন প্রকৃত নেতার বড় অর্জন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে মূল্যায়নের যে নীতি গ্রহণ করেছেন, তারই প্রতিফলন হিসেবে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের যে সংগ্রাম বিএনপি চালিয়ে যাচ্ছে, তার সফল সমাপ্তি ঘটিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই এখন তার একমাত্র লক্ষ্য। তিনি মনে করেন, ধানের শীষের বিজয় মানেই সাধারণ মানুষের বিজয়, আর সেই বিজয় নিশ্চিত করতে তিনি দিনরাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন।
তার নির্বাচনী পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান। শিল্পাঞ্চল সিদ্ধিরগঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে এখানকার মানুষকে যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তার অবসান ঘটানো হবে তার প্রথম কাজ। যানজট নিরসন এবং জনঘনত্ব অনুযায়ী আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সিদ্ধিরগঞ্জকে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে, সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য নিয়ে তার রয়েছে এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। বিশ্বখ্যাত পানাম নগরীসহ বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যটন শিল্পের আধুনিকায়ন এবং শিল্প বর্জ্যের বিষাক্ত প্রভাব থেকে পরিবেশ ও নদীকে রক্ষা করতে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত গ্যাস সংযোগ সমস্যার সমাধান করে প্রতিটি ঘরে ন্যায্য অধিকার পৌঁছে দিতে তিনি সর্বোচ্চ সততা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে, আজহারুল ইসলাম মান্নান ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, আগামী নির্বাচনে তারা যেন অনেক ভেবে-চিন্তে তাদের মূল্যবান আমানত বা ভোট প্রদান করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, দুঃসময়ে যারা সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতে যারা সুখে-দুখে ছায়ার মতো পাশে থাকবে, তাদেরকেই নির্বাচিত করা উচিত। স্বৈরাচারী শাসনামলের অবহেলা ও উন্নয়নের নামে চলা লুটপাট বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সন্ত্রাসমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়া তার প্রধান অঙ্গীকার। তিনি স্বপ্ন দেখেন এমন এক নারায়ণগঞ্জের, যেখানে মানুষের নাগরিক অধিকার থাকবে সুরক্ষিত এবং প্রতিটি সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ও সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবে। তার এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং উন্নয়নমুখী চিন্তা ইতিমধ্যে সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জের সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।