মো: মামুন অর রশিদ:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাটের গুদামসহ পেঁয়াজ, আলু ও ভাঙারি মালামাল মজুত রাখা আটটি ঘর পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে এ ঘটনায় ৬৫ লাখ ২২ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে আগুনের মধ্যেও ৯১ লাখ টাকা নগদ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া নতুন বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফলিয়া নতুন বাজারে একই পরিবারের তিন ভাইয়ের মালিকানাধীন আটটি ঘর বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল। ঘরগুলোতে বিপুল পরিমাণ পাট, পেঁয়াজ, আলু, কাঁচামাল ও ভাঙারি মালামাল মজুত ছিল। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঘরগুলোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মজুত করা মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাসুদ মণ্ডলের দুটি দোকানে ৫৫০ মণ পাট, ৩০০ মণ পেঁয়াজ ও প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ভাঙারি মালামাল ছিল। এ ছাড়া ফিরোজ মেম্বারের ৫০০ মণ পাট, কালাম মোল্যার ২০০ মণ আলু, ইমরুল মোল্যার ১০০ মণ পেঁয়াজ ও ১০০ মণ পাট, জুইছান মোল্যার ৬০০ মণ পাট, জুয়েল মণ্ডলের ১৫০ মণ পাট ও ১০০ মণ পেঁয়াজ এবং হাবিব মণ্ডলের ৫০ মণ পাট মজুত ছিল।
ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোতে মোট প্রায় ১ হাজার ৯৫০ মণ পাট, ৫০০ মণ পেঁয়াজ, ২০০ মণ আলু এবং প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ভাঙারি মালামাল ছিল। তবে এসব পণ্যের কতটুকু সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং কতটুকু আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত আটটি ঘরের মালিক ফলিয়া এলাকার আবু বক্কর মোল্যার তিন ছেলে কামরুল মোল্যা, জিহাদুল মোল্যা ও ইমরান মোল্যা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে তাঁদের ব্যবসার বিপুল পরিমাণ পণ্য ও পুঁজি নষ্ট হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁরা তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৬৫ লাখ ২২ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান দৈনিক স্বাধীন সংবাদকে জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৬৫ লাখ ২২ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ৯১ লাখ টাকা নগদ সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা টাকার কোনো অংশ আগুনে পোড়েনি।
তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পরিমাণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।