কামরুল ইসলাম:
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে মাদকবিরোধী জোরালো অভিযান চালিয়ে একদিনে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার ১২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ৮৩ হাজার ৬০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
শুক্রবার সকালে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে পৃথক তিনটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উখিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী বিজিবি ক্যাম্পের আওতাধীন ‘মাস্টারের ঘের’ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন এক যুবকের গতিবিধি নজরে এলে তাকে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তি হলেন উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ধামনখালী গ্রামের বাসিন্দা ফজল করিমের ছেলে মোহাম্মদ আমিন (২০)। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে একই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের গুইজার খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি। সীমান্ত দিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে ইয়াবাগুলো সেখানে মজুদ রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ইছাকের ঘের এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ২ লাখ ১২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মাদক পাচারকারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা উখিয়া-টেকনাফ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মাদক চোরাকারবারীরা দেশে ইয়াবা প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মাদক চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যেসব চোরাকারবারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি মাদক পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিজিবির চলমান এসব অভিযানের ফলে সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে মাদক কারবারিদের নতুন নতুন কৌশল মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।