মো. আনজার শাহ:
ফেনীর উন্নয়নের চাকা আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে দৃঢ় আশ্বাস দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং ফেনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। তিনি বলেছেন, সংসদ সদস্য, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণেও সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রী বলেন, “ইনশাআল্লাহ, এই সরকারের আমলেই ফেনীর প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, জেলার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসন, যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতি এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী, উপস্থিত মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শুভেচ্ছা জানান জাকারিয়া তাহের সুমন। তিনি বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানে আমার খুব বেশি বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনারা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তাই আমি সংক্ষিপ্তভাবে আমার বক্তব্য শেষ করছি।”
ফেনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখভালের সুযোগ তিনি পেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক আগ্রহের কথা তুলে ধরে জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার নানার বাড়িতে আগমন উপলক্ষে ফেনীর মানুষ সকাল থেকেই অপেক্ষা করছেন। এটি আপনার নিজের এলাকা। এখানকার মানুষের প্রত্যাশা ও আবেগের সঙ্গে আপনার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ফেনীর উন্নয়ন কীভাবে আরও ত্বরান্বিত করা যায়, তা প্রধানমন্ত্রী নিজেই দেখবেন এটাই এ অঞ্চলের মানুষের বিশ্বাস। তাঁর ভাষায়, “ইনশাআল্লাহ, আমাদের সরকারের আমলেই ফেনীর প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
বন্যা-জলাবদ্ধতা কমানোর বড় উদ্যোগ:
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার দীর্ঘদিনের বন্যা, জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, জেলার উন্নয়নে যেসব প্রকল্প প্রয়োজন, সেগুলো গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দেবে। উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, ফেনীর উন্নয়ন কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; এটি জেলার মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী ও উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি আর বেশি বক্তব্য বাড়াতে চাই না। আপনারা সবাই অধীর আগ্রহে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন। সবাইকে ধন্যবাদ।”
প্রসঙ্গত, ফেনীর দীর্ঘদিনের বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা মোকাবিলায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়।