মোঃ আনজার শাহ:
বরুড়ার মাটিতে যেন নতুন সূর্যোদয়ের আভাস। যেখানে স্বপ্ন দেখা হচ্ছে একটি মাদকমুক্ত, শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল উপজেলার। আর এই স্বপ্নের রূপকার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন। কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে তিনি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রদান করেছেন বরুড়া থানা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজন মজুমদার ও প্রচার সম্পাদক রাকিবুল ইসলামকে।
সাক্ষাৎকারে তাঁর প্রতিটি কথায় ফুটে উঠেছে বরুড়ার প্রতি গভীর ভালোবাসা, উন্নয়নের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।
শিক্ষায় আধুনিকতা ও গুণগত মানের বিপ্লব
শিক্ষাক্ষেত্রে পরিকল্পনা সম্পর্কে জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “আমার প্রথম কাজই হবে শিক্ষার মান আধুনিকীকরণ। প্রতিটি স্কুল-কলেজে আইটি ল্যাব ও কম্পিউটার ল্যাব থাকতে হবে। এখন এআইয়ের (AI) যুগ—আমাদের সন্তানদের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা হবে। তাঁর বিশ্বাস, শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে পারলেই সমাজের ভিত মজবুত হবে।
বেকারত্ব সমাধানে দক্ষতা ও বিদেশি ভাষা প্রশিক্ষণ
শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। তিনি বলেন, “সবাই সব রকম মেধাবী নয়। যারা অতি মেধাবী, তারা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবে। আর যারা মধ্যম মেধাবী, তাদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব।”
তাঁর অন্যতম প্রধান পরিকল্পনা হলো বরুড়ায় একটি ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা—বিশেষত কোরিয়ান ও জাপানি ভাষা শেখার কেন্দ্র। তাঁর যুক্তি: “মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে কোরিয়া-জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি এবং বেতনও তিন-চারগুণ বেশি। আমাদের যুবকদের দক্ষ করে এসব দেশে পাঠানো হবে।” এই প্রতিশ্রুতি বরুড়ার তরুণ প্রজন্মের মনে আশার আলো জাগিয়েছে।
কৃষকের মুখে হাসি ফোটাবে ‘কৃষি কার্ড’
কৃষকদের উন্নয়নে তাঁর পরিকল্পনা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নীতিকেই মনে করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, “বিএনপি সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, কৃষকদের প্রাধান্য দিয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেচ ও বীজ বিতরণের মাধ্যমে কৃষকদের উন্নয়ন করেছেন।”
তিনি ঘোষণা দেন, প্রতিটি কৃষকের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে, যাতে সার, বীজ ও ঋণসহ সকল সুবিধা সরাসরি পাওয়া যায়। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “এতে মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নিতে পারবে না—শুধু প্রকৃত কৃষকরাই উপকৃত হবেন।”
প্রবাসীদের সেবা হবে আরও সহজ
বরুড়ার অনেক প্রবাসী আইডি কার্ড, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্ট করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন। এ প্রসঙ্গে জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, “প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে আরও জনবান্ধব করা হবে। এই সেবাগুলো সহজে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করব ইনশাআল্লাহ।”
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি
টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতির প্রশ্নে তিনি অত্যন্ত কঠোর। তিনি বলেন, “গত ৩০ বছর ধরে আমি বরুড়ার মাটিতে আছি। কেউ বলতে পারবে না যে আমি কোনো অবৈধ কাজে জড়িত ছিলাম। সব টেন্ডার হবে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ—যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ বণ্টন করা হবে।”
“বরুড়া আমার শেকড়, আমার স্বপ্ন”
সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তে তিনি বলেন, “বরুড়া আমার শেকড়। এই মাটিকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করাই হবে আমার প্রথম লড়াই।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে বরুড়াকে একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবেন।
ভালোবাসা ও শান্তির আহ্বান
বরুড়াবাসীর উদ্দেশে তাঁর শেষ বার্তায় ছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও শান্তির আহ্বান। তিনি বলেন, “আমরা যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারি। যে যে দলই করি না কেন, আমরা সবাই ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একটি আধুনিক বরুড়া গড়ব।”
সাক্ষাৎকার শেষে উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণ করতালির মাধ্যমে তাঁর প্রতি সমর্থন জানান। বরুড়ার মাটিতে এখন পরিবর্তনের ডাক। জাকারিয়া তাহের সুমনের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বরুড়াবাসী।