আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত বহুল আলোচিত প্রামাণ্যচিত্র ‘নাজা’ ইতালির সিনেমা হলগুলোতে মুক্তির প্রথম দুই দিনেই বক্স অফিসের শীর্ষস্থান দখল করেছে। ইতালির বক্স অফিস ট্র্যাকার সিলাইনেটেলের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত সিনেমাটির টিকিট বিক্রি ১১ লাখ ইউরো বা প্রায় ১২ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।
মুক্তির প্রথম দিন সোমবার ছবিটি ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮৭২ ইউরো আয় করে এবং ৬০ হাজার ৪৬৭ জন দর্শক সিনেমাটি দেখেন। এদিন বক্স অফিসে ছবিটি প্রথম স্থানে উঠে আসে। একই দিনে পুনরায় মুক্তি পাওয়া ব্লকবাস্টার ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১২ ইউরো আয় করে, যা ‘নাজা’র আয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
মঙ্গলবারও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে প্রামাণ্যচিত্রটি। এদিন ‘নাজা’ আয় করে ৬ লাখ ২৩ হাজার ১৬৪ ইউরো এবং দর্শকসংখ্যা ছিল ৮৩ হাজারের বেশি। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত ছবিটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯৬ হাজার ৮১৬ ইউরো এবং মোট দর্শকসংখ্যা ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭২০ জন।
প্রাথমিকভাবে ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের বিশেষ প্রদর্শনী হিসেবে ইতালির ৫১৫টি সিনেমা হলে ‘নাজা’ মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগ হলের টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে যায়। দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে নির্ধারিত সময়ের পরও সিনেমাটির প্রদর্শনী অব্যাহত রাখা হয়েছে।
অস্কারজয়ী ইসরায়েলি নির্মাতা উভাল আব্রাহাম ও রেচেল জোর পরিচালনায় নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্রে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা সদস্যদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
তেল আবিবের বিভিন্ন ভবনের ছাদে তিন বছর ধরে গোপনে ধারণ করা এই প্রামাণ্যচিত্রে ২৪ জন ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে নির্মাতারা জানিয়েছেন। তাদের পরিচয় গোপন রাখতে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে চেহারা ও কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করা হয়েছে।
চলচ্চিত্রে সাক্ষ্য দেওয়া কয়েকজন ইসরায়েলি সামরিক সদস্য দাবি করেছেন, বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত, ট্র্যাক ও বিমান হামলা পরিচালনার পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। কয়েকজন আবাসিক এলাকায় আগুন লাগানো এবং গাজায় ত্রাণ বিতরণের সময় ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলিবর্ষণের মতো ঘটনারও বর্ণনা দিয়েছেন।
‘নাজা’ নামটি ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘আমান’-এর ব্যবহৃত একটি সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো বিমান হামলায় সম্ভাব্য কতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হতে পারেন, তা বোঝাতে এই কোড শব্দটি ব্যবহার করা হতো বলে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রামাণ্যচিত্রটির প্রদর্শনী হয়। প্রদর্শনীর পর দর্শকেরা প্রায় ২৫ মিনিট দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। পরে চলচ্চিত্রটি ‘স্পেশাল জুরি প্রাইজ’ লাভ করে।
তবে প্রামাণ্যচিত্রটি ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের পর চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলি সেনাদের ‘মানহানি’কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।