নিজস্ব প্রতিবেদক:
জজ কোর্টে আইন পেশায় কাজ করার সময় পাওয়া একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা তাকে আইন পেশা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল। এমনকি ভবিষ্যতে আর কখনো আইন পেশায় ফিরবেন না—এমন সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন পর এক বন্ধুর অনুপ্রেরণায় আবারও আইন পেশায় ফেরেন এবং হাইকোর্টে আইন পেশা শুরু করেন।
নিজের দেওয়া এক বক্তব্যে ওই আইনজীবী জানান, একসময় তাদের একটি ছাপাখানা ছিল। তার জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর চেম্বারের এক মক্কেলের কিছু ছাপার কাজ ওই ছাপাখানা থেকে করা হয়েছিল। কাজ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মক্কেলকে পারিশ্রমিকের বিষয়ে জানানো হলেও তিনি টাকা পরিশোধ করছিলেন না।
পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি চেম্বারে এলে তিনি জানতে চান, ‘আপনি আমাদের কাজের পারিশ্রমিক কেন দিচ্ছেন না?’
জবাবে ওই মক্কেল দাবি করেন, তার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তাকে ফোন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে এক লাখ টাকা নিয়েছেন।
এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমাদের কাজের টাকা তাকে কেন দেবেন?’
ওই মক্কেলের দাবি, তার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তাকে বলেছেন—ছাপার ওই কাজেও তিনি অংশীদার রয়েছেন। তাকে টাকা না দিলে তার মামলার ক্ষতি করে দেওয়া হবে বলেও নাকি হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
এই ঘটনার পর বিষয়টি তাকে গভীরভাবে হতাশ করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার পরিশ্রমের পারিশ্রমিক তো পানইনি, উল্টো ছাপাখানার কাজেও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
এরপরও তিনি বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকেন। পরে জজ কোর্টে যাওয়া বন্ধ করে দেন। এমনকি আর কখনো আইন পেশায় ফিরবেন না বলেও সিদ্ধান্ত নেন।
তবে দীর্ঘদিন পর তার এক বন্ধু পুরো বিষয়টি জানতে পেরে তাকে হাইকোর্টে আইন পেশা শুরু করার জন্য উৎসাহ দেন। বন্ধুটি তাকে বোঝান, হাইকোর্টে আইন পেশা করলে তার ভালো লাগবে।
বন্ধুর অনুপ্রেরণায় শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে আইন পেশা শুরু করেন তিনি। তার ভাষ্য, জজ কোর্টে পাওয়া তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্পূর্ণ বিপরীত পরিবেশ তিনি হাইকোর্টে পেয়েছেন।
এরপর থেকে হাইকোর্টে আইন পেশায় যুক্ত রয়েছেন তিনি। এ জন্য নিজের সেই বন্ধুর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তার বক্তব্যে তিনি বলেন, তার সেই অনুপ্রেরণাদাতা বন্ধু হলেন নাজমুস সাকিব তুস্তি। হাইকোর্টে বিভিন্ন বিষয়ে তিনি এখনো তাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন বলেও জানান।
পাশাপাশি বর্তমানে নিজের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হলেন অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম (সজল)।
সুপ্রিম কোর্টে নিজের বন্ধু ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ওই আইনজীবী বলেন, তারা পাশে না থাকলে হয়তো তার আইন পেশায় ফিরে আসা সম্ভব হতো না।
ভবিষ্যতে ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে আইন পেশায় এগিয়ে যেতে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।