শিল্পকলা একাডেমিতে দুর্নীতির বরপুত্র ও ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের মাস্টারমাইন্ড জাসদ নেতা শেখ এহসানুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ইনস্ট্রাক্টর (নাট্যকলা) শেখ এহসানুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ বিভাগের অন-জব ট্রেনিংয়ের নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী, দুটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার কথা বলে তিনি নিজের নামে ৪,৯৯,০০০ টাকা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া উত্তোলন করলেও বাস্তবে একটি কর্মশালারও আয়োজন করা হয়নি।

নিজেকে জাসদ ছাত্রলীগের নেতা পরিচয়দানকারী জনাব এহসানুর রহমান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় অমান্য করে সাড়ে আট বছর ধরে চাকরি না করেও প্রায় ৯২ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন। যে কারণে এ বছর তার বিরুদ্ধে অডিট আপত্তিও হয়েছে। এছাড়া, তিনি প্রশিক্ষণ বিভাগের ইনস্ট্রাক্টর হলেও সংগীত বিভাগ ও প্রশাসন বিভাগের দাপ্তরিক নথিপত্র নিজে সরাসরি সচিব ও মহাপরিচালকের নিকট ডিল করেন, বদলি, পদোন্নতি, বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি সংক্রান্ত তদবিরসহ আউটসোর্সিং ও মাস্টাররোলের নিয়োগ বাণিজ্য—সবকিছুর সঙ্গেই তিনি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।

এছাড়াও তিনি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর নামে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে ক্যামেরা না কিনে, কোথাও কোথাও প্রদর্শনীর আয়োজন না করেই টাকা আত্মসাৎ করার সুনির্দিষ্ট তথ্য দাপ্তরিক নথিতে উঠে এসেছে। উপস্থাপক না হলেও তিনি সংগীত বিভাগ আয়োজিত সকল অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করে অযাচিতভাবে হাজার হাজার টাকার সম্মানী হাতিয়ে নিচ্ছেন।

বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলের সুবিধাভোগী বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরির প্রধান কারিগর এই এহসানুর রহমান। সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই তিনি নির্বিঘ্নে অপকর্ম এবং দুর্নীতি করে যাচ্ছেন।

এছাড়া, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর অতিঘনিষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃত সুন্দরী নারী কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি একাডেমিতে এখন ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে প্রতিবেদকের হাতে সমস্ত প্রমাণাদি রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *