তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন: মানবিক সহায়তা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বার্তা

মোহাম্মদ হোসেন সুমন:

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনার লক্ষ্যে শুক্রবার (৫ জুন) কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন তুর্কি প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। এ সফরে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনযাত্রা, চলমান মানবিক কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির এবং উদ্বাস্তু ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে তারা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় পরিচালিত বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের ক্যাম্প-৯ ও ক্যাম্প-১৬ পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা শরণার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন মানবিক সেবাকেন্দ্র ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি তুরস্কের সহায়তায় পরিচালিত তুর্কি ফিল্ড হাসপাতাল এবং টিআইকেএ (TIKA)-এর বহুমুখী শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে যে অবদান রাখা হচ্ছে, তা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তুরস্কের বিভিন্ন মানবিক সংস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনা। বিশেষ করে তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট, টিআইকেএ এবং অন্যান্য দাতা সংস্থার উদ্যোগে পরিচালিত প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি ও প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে তুরস্কের চলমান সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উচ্চপর্যায়ের সফর শুধু রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বকেই তুলে ধরেনি, বরং বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচিত রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং টেকসই সমাধান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের কূটনৈতিক সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তুরস্ক ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য আরও কার্যকর ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *