মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩০ দিনব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ক্যাম্পাস ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় ওয়েব ডিজাইন ও ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যাচের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং অনলাইনভিত্তিক আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যাচের মোট ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশের ফলে কর্মসংস্থানের ধারণায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। প্রচলিত চাকরির গণ্ডি পেরিয়ে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। ওয়েব ডিজাইন ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে তরুণেরা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়মিত ও মনোযোগের সঙ্গে হাতে-কলমে কাজ শেখার পরামর্শ দেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ই-কমার্সের দ্রুত প্রসারের ফলে বিশ্বজুড়ে ওয়েব ডিজাইন ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের চাহিদা বাড়ছে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথও সুগম হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাঁদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।