পরিকল্পিত নগরায়ণে বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার পথে সরকার: গণপূর্তমন্ত্রী

মো: আনজার শাহ:

পরিকল্পিত নগরায়ণের মধ্য দিয়ে সারা দেশে বাসযোগ্য, নিরাপদ ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, এমপি। তিনি বলেছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের লাগাম টেনে আবাসন, সড়ক, যোগাযোগ ও নাগরিক অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

রোববার (৪ অক্টোবর) বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর জিয়া উদ্যান থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য র‍্যালির আগে তিনি এসব কথা বলেন। র‍্যালিটি বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গিয়ে শেষ হয়।
মন্ত্রী জানান, সীমিত আয়ের মানুষের আবাসন সংকট নিরসনে দেশের ৫৮টি এলাকায় এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ বিভিন্ন চিহ্নিত এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে এসব ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য কেবল আবাসন নির্মাণ নয়; পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে নাগরিকদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত থাকবে।

মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় সমন্বিত উন্নয়ন:
গৃহায়নমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ নগর এলাকায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পরিকল্পনার আওতায় আবাসন, সড়ক, যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিক অবকাঠামো গড়ে তুলে নগরায়ণকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনা হবে।
তিনি বলেন, নগরায়ণ যেন অপরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পরিকল্পিত আবাসন ও নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মানুষের জীবনযাত্রার মান যেমন উন্নত হবে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যাওয়াও সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার ও আবাসন মেলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

র‍্যালিতে অংশ নেন যারা:
র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান; রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা এবং রিহ্যাব, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা র‍্যালিতে অংশ নেন।

আজ মূল আলোচনা অনুষ্ঠান:
আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে দিবসের মূল আলোচনা অনুষ্ঠান হবে।
এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, এমপি এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক।

১৫৭ স্টলে আবাসন মেলা:
দিবসটি উপলক্ষে মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের লবিতে বসছে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলা। ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া এ মেলায় অংশ নেবে রিহ্যাব, নির্মাণ খাত, ব্যাংকিং সেবা, রাজউক, স্থাপত্য অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, নগর পরিকল্পনাসহ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা।
আবাসন, নির্মাণ ও ব্যাংকিং খাতের নানা পণ্য ও সেবা প্রদর্শনের জন্য মেলায় থাকবে মোট ১৫৭টি স্টল। মূল আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী মেলার উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ে বিশেষ সেমিনার:
দিবসের মূল প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সোমবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে হল অব ফেমে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সেমিনার। এতে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও টেকসই আবাসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞরা গবেষণালব্ধ তথ্য এবং প্রস্তাবনা উপস্থাপন করবেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হবে ‘On-Site Upgradation of Low-Income Housing: Evidence From Two Case Study Areas of Dhaka’ শীর্ষক গবেষণা। হাউজ বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট উপস্থাপন করবে ‘HBRI Housing Model: Advancing Adequate Housing for All in Bangladesh’।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের প্রবন্ধের বিষয় ‘Adequate Housing for All: Rethinking Modes of Housing Provision in a Changing World’। হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটির পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হবে ‘Housing for All in Bangladesh: Building an Inclusive, Affordable and Climate-Resilient Housing System’।

দেশজুড়ে কর্মসূচি:
রাজধানীর পাশাপাশি দেশের সব বিভাগ ও জেলা পর্যায়েও দিবসটি উদ্‌যাপন করা হবে। এ উপলক্ষে স্মরণিকা প্রকাশ, টেলিভিশন ও বেতারে বিশেষ টক শো প্রচার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে পরিকল্পিত নগরায়ণ, সবার জন্য উপযুক্ত আবাসন এবং জলবায়ু-সহনশীল নগর গড়ে তোলার প্রত্যয় আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে শুধু ইট-পাথরের অবকাঠামো নয় নিরাপদ আবাসন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সচল যোগাযোগব্যবস্থা এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণও সমান জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *