নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি:
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ফয়সাল ফাহাদ নামে এক যুবককে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে ও ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় নিয়ে যাওয়া হলেও পুলিশকে না জানিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রীকে নিয়ে যাওয়ার সময় মাদ্রাসা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে গোহারুয়া সরকারি হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় ফয়সাল ফাহাদকে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাদের মাদ্রাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের খবর দেয়। পরে অভিভাবকরা এসে ছাত্রীকে বাড়িতে নিয়ে যান।
আটক ফয়সাল ফাহাদ উপজেলার ঘোড়াময়দান গ্রামের তনু হাজি বাড়ির নুর মোহাম্মদ দুলালের ছেলে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেকে ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পোস্ট ও ফেস্টুন প্রচার করেন বলে জানা গেছে। তবে দলীয় সূত্রের দাবি, ছাত্রদলে তাঁর কোনো পদ-পদবি নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ফয়সাল এলাকায় একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
ঘটনার বিষয়ে ওই মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নেছার উদ্দিন বলেন, ওই ছাত্রী ও ফয়সালের মধ্যে আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। স্থানীয়রা তাদের একসঙ্গে দেখে আটক করে মাদ্রাসায় নিয়ে আসেন। পরে অভিভাবকদের ডেকে এনে ছাত্রী ও ফয়সালকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এদিকে ফয়সাল ফাহাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এবং গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বা ওই ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পুলিশকে কোনো কিছু জানানো হয়নি।
পুলিশকে না জানিয়ে ঘটনাটি মীমাংসা করে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।