পুঠিয়া-দুর্গাপুরে তিন ফসলি জমি কেটে অবৈধ পুকুর খনন, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজশাহীর পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলায় তিন ফসলি উর্বর কৃষিজমি কেটে অবৈধভাবে পুকুর খননের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে এক্সকাভেটর ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে এসব জমি ধ্বংস করে পুকুরে রূপান্তর করা হচ্ছে, যা একদিকে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যকেও হুমকির মুখে ফেলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুঠিয়া ও দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র বেনামে পুকুর খননের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে তারা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করেও সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, একের পর এক তিন ফসলি জমি কেটে পুকুরে পরিণত করা হলেও কার্যকরভাবে তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে কৃষিনির্ভর সাধারণ মানুষ চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এলাকায় খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাবে এবং কৃষি অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাতের বেলায় গোপনে এক্সকাভেটর চালিয়ে দ্রুত গতিতে জমি কাটা হয়, ফলে অনেক সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাধা দেওয়াও সম্ভব হয় না। তারা বলেন, প্রশাসন অভিযান চালালেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা আগেই সরে যায় বা কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে, পরে আবার শুরু করে।

এ বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন মতামতও সামনে এসেছে। অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল বলেন, যারা তিন ফসলি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে পুকুর খননের মতো কাজে জড়িত, তাদের সকলকেই আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের আরও শক্ত অবস্থান নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং একাধিক এক্সকাভেটরের ব্যাটারি জব্দসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে রাতের আঁধারে এবং গোপনে কাজ চলায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ দাবি করে বলেছেন, অবিলম্বে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করতে হবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর কৃষিজমি ধ্বংসের সাহস না পায়।

সব মিলিয়ে পুঠিয়া ও দুর্গাপুরের এই পরিস্থিতি এখন স্থানীয় কৃষি, পরিবেশ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *