ফেসবুকের ভিডিওকে ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ দাবি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইলেন আনসার সদস্য

গাজীপুর প্রতিনিধি:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘সাপ্তাহিক শীতলক্ষ্যা’ নামের একটি আইডি থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওকে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও উপজেলা আনসার বাহিনীর ইউনিয়ন কমান্ডার মোঃ ইসমাইল হোসেন ফকির।

একই সঙ্গে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই, উৎস ও প্রেক্ষাপট অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

ইসমাইল হোসেন ফকিরের দাবি, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ‘কাপাসিয়ায় হাঁস-মুরগি দিয়ে … নেওয়া’ শিরোনামে একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়। ভিডিওটি গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাঁর নজরে আসে। পরে স্বজনদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর ভিডিওতে দেখানো ব্যক্তিদের বিষয়ে তিনি খোঁজ নেন।

তাঁর ভাষ্য, ভিডিওতে যাদের দেখানো হয়েছে, তারা উপজেলার তরগাঁও ইউনিয়নের শিকদার মার্কেট এলাকার হতদরিদ্র দিনমজুর ও রাজমিস্ত্রি শ্রমিক। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, ভিডিওতে উপস্থাপিত বক্তব্য ও বাস্তব ঘটনার মধ্যে মিল নেই—এমন দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ইসমাইল হোসেন ফকির বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আনসার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, উপজেলার কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে কে বা কারা অভিযোগ করেছেন, সে ধরনের তথ্য সংগ্রহ বা সরবরাহ করার সুযোগ তাঁর নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় বাসিন্দা আজহার নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে এ বিষয়কে কেন্দ্র করে আগে থেকেই তাঁর বিরোধ রয়েছে। ওই ব্যক্তি বিভিন্ন সময় তাঁর কাছে জানতে চাইতেন, তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে কে বা কারা অভিযোগ করেছেন। এ ধরনের তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইসমাইল হোসেন ফকির জানান, জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি শিকদার মার্কেট এলাকায় একটি মুদি দোকান পরিচালনা করেন। তাঁর দাবি, দোকানের সামনে দিয়ে যাতায়াতের সময় বিভিন্ন পুলিশ সদস্য সেখানে চা পান করেন। এছাড়া কাপাসিয়া থানায় নতুন কোনো পুলিশ কর্মকর্তা এলে এলাকার বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের সুবিধা কিংবা রাস্তার তথ্য জানতে কখনো কখনো তাঁর কাছ থেকে সহযোগিতা নেওয়া হতো।

তাঁর অভিযোগ, এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে আজহার নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। পাশাপাশি দোকানের পণ্য বাকিতে না দেওয়া এবং স্থানীয় বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করার কারণেও তাঁকে সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি তৈরি, সম্পাদনা বা প্রচার করা হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।

ইসমাইল হোসেন ফকির বলেন, “আমি কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিতে চাই না। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কিংবা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলে সেটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনের। কিন্তু আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। আমি এর প্রতিকার চাই।”

তিনি আরও দাবি করেন, ভিডিওটিতে দুই অসহায় ও শ্রমজীবী মানুষের বক্তব্য বা কথোপকথনের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে না ধরে একতরফাভাবে একটি ঘটনা উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ সত্যতা যাচাই, ভিডিওটির উৎস ও প্রেক্ষাপট অনুসন্ধান এবং অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইসমাইল হোসেন ফকির। একই সঙ্গে কোনো তথ্য প্রকাশের আগে তা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি।

প্রতিবেদকের নোট: প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো মোঃ ইসমাইল হোসেন ফকিরের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, ভিডিওটির উৎস ও উপস্থাপিত বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন। অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য ও যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *