বদলি আদেশের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি নাজনীন

স্টাফ রিপোর্টার:

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বদলি আদেশ জারির পরও নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে ঢাকায় অবস্থান করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে অধিদপ্তরের অধীন এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। সরকারি আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাইটেশিয়ান নাজনীন আহমেদকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাইটেশিয়ান পদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা-৩-এর স্মারক নং-স্বাঃঅধিঃ/প্রশা-৩/৩য় শ্রেণী/৪০৪/২৫/২১৩০-এর আদেশে নাজনীন আহমেদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শূন্য পদে বদলি/পদায়ন করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে এবং আদেশ জারির তিন কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় চতুর্থ কর্মদিবস থেকে তিনি সরাসরি অব্যাহতি পেয়েছেন বলে গণ্য হবেন।

সরকারি আদেশে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের কথাও উল্লেখ রয়েছে। ফলে আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র গ্রহণ করে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করার কথা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর।

আদেশ কার্যকরের পরও ঢাকায় থাকার চেষ্টা

অভিযোগ রয়েছে, বদলি আদেশ জারির পরও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে নাজনীন আহমেদ ঢাকায় থাকার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে বদলি আদেশ কার্যকর না করতে বিভিন্ন মহলে তদবির ও প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রায় ১৭ বছরের কর্মজীবনে নাজনীন আহমেদ বিভিন্ন সময় কর্মস্থল ও দায়িত্বসংক্রান্ত বিষয়ে প্রভাব-তদবিরের সুযোগ নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের অভিযোগও করা হয়েছে। এমনকি বর্তমান বদলি আদেশ ঠেকাতে অর্থের বিনিময়ে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নাজনীন আহমেদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি একটু অসুস্থ। আপনাদের সঙ্গে পরে কথা হবে।”

আগের আদেশের পরও কেন যোগদান নয়?

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নাজনীন আহমেদকে এর আগেও বদলি/পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ মে ২০২৬ তারিখের একটি স্মারক/আদেশেও তার কর্মস্থল পরিবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঢাকায় অবস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ।

এ কারণে প্রশ্ন উঠেছে—একজন সরকারি কর্মচারীর বদলি আদেশ জারির পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র নেওয়া এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করার সুযোগ কোথায়? প্রশাসনিক আদেশ বাস্তবায়নে কোনো কর্মকর্তা বা প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে বাধা কোথায়?

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিতে বদলি ও পদায়নের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন প্রশাসনিক শৃঙ্খলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো কর্মচারীকে বদলি করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ এবং নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব গ্রহণ করার নিয়ম রয়েছে।

কিন্তু কোনো কর্মচারী যদি সরকারি আদেশের পরও নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে পূর্বের কর্মস্থল বা ঢাকায় অবস্থান করতে পারেন, তাহলে প্রশাসনিক আদেশের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দেয়।

নাজনীন আহমেদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আদেশে যদি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছাড়পত্র গ্রহণ না করলে চতুর্থ কর্মদিবস থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী সরাসরি অব্যাহতি পেয়েছেন বলে গণ্য হবেন, তাহলে তিনি বর্তমানে কোন প্রশাসনিক অবস্থানে এবং কীভাবে চাকরিতে বহাল রয়েছেন—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

১৭ বছরের চাকরির নথি যাচাইয়ের দাবি

অভিযোগকারীরা নাজনীন আহমেদের প্রায় ১৭ বছরের কর্মজীবনের কর্মস্থল, বদলি, পদায়ন, ছুটি, দায়িত্ব পালন, ছাড়পত্র ও যোগদানসংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি করা হয়েছে।

তাদের মতে, কোনো কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বা তদবিরের মাধ্যমে বদলি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলে সরকারি প্রশাসনে বৈষম্য ও অনিয়মের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তাই শুধু বর্তমান বদলি আদেশ নয়, অতীতের বদলি ও পদায়নের ঘটনাগুলোও যাচাই করা প্রয়োজন।

নথি যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে নাজনীন আহমেদের বদলি-পদায়নের সব আদেশ, ছাড়পত্র, যোগদানপত্র, উপস্থিতির রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বদলি আদেশ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের তদবির, চাপ বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা দরকার।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি আদেশ সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হওয়া উচিত। একজন কর্মচারী যদি নির্ধারিত সময়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করেও কোনো প্রক্রিয়ায় চাকরিতে বহাল থাকতে পারেন, তাহলে তা সরকারি প্রশাসনের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *