মোঃআনজার শাহ
“চল্লিশ কিলোমিটার দূরে শহরে না গিয়ে বাড়ির পাশেই চোখের ডাক্তার দেখাতে পারলাম এই সুযোগ না পেলে কী করতাম জানি না।” কথাগুলো বলছিলেন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আড্ডা ইউনিয়নের বাসিন্দা তানিয়া আক্তার। বুধবার (১০ জুন) পল্লী মঙ্গল কর্মসূচির (পিএমকে) উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে এভাবেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
বরুড়া উপজেলার আড্ডায় পিএমকের অফিস প্রাঙ্গণে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে ইউনিয়নের শত শত নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এই ক্যাম্পে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেবা প্রদান করেন এবং পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি চক্ষু, মেডিসিন, গাইনি, চর্ম ও যৌন, শিশু এবং সার্জারি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা সেবা প্রদান করেন। এ ছাড়া বিনামূল্যে ওষুধ এবং চক্ষু রোগীদের জন্য পাওয়ার চশমা বিতরণ করা হয়।
পিএমকে আড্ডা বাজার শাখার ব্যবস্থাপক আবু সালেহ বলেন, “আমাদের শাখার গ্রাহকসহ এলাকার মা ও শিশু এবং সকল বয়সের অতিদরিদ্র ও অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। কারও জটিল রোগের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে আমাদের পিএমকে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সেই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। প্রতি বছরের মতো ভবিষ্যতেও এই ধরনের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
ক্যাম্পে আসা বৃদ্ধা এক নারী চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারেন তাঁর চোখে ছানি পড়েছে এবং অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। কীভাবে হাসপাতালে যাবেন এই দুশ্চিন্তায় কাঁদো কাঁদো হয়ে পড়লে পাশে দাঁড়ান একজন পিএমকে কর্মকর্তা। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “অস্ত্রোপচারের সব ব্যবস্থা আমরাই করে দেব।” সেবা পেয়ে কৃতজ্ঞতায় অভিভূত হয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধা।
উল্লেখ্য, পল্লী মঙ্গল কর্মসূচি (পিএমকে) ১৯৮৭ সালের ২৭ নভেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির পাশাপাশি মা ও শিশু স্বাস্থ্য সচেতনতা, চক্ষু চিকিৎসা এবং গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ প্রদান করে আসছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এই মহতী উদ্যোগ সমাজের সকল মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।