কামরুল ইসলাম:
বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন এলাকার একটি হোটেলে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে লোকমান নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বান্দরবান থেকে ওই কিশোরীকে চট্টগ্রামে নিয়ে এসে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, লোকমানের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত ২ অক্টোবর বান্দরবানে থাকা কিশোরীকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন লোকমান। পরে রাত হয়ে যাওয়ার কথা বলে সেদিন বিয়ে করা সম্ভব নয় এবং পরদিন বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি। এরপর কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার আওতাধীন পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন এলাকার হোটেল হেরিটেজে ওঠেন অভিযুক্ত যুবক।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হোটেলটির দ্বিতীয় তলার ১১২ নম্বর কক্ষে ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন লোকমান। বিয়ের আশ্বাসে তাঁর সঙ্গে চট্টগ্রামে আসার পর এমন ঘটনার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছে কিশোরী। তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পরদিন ৩ অক্টোবর কিশোরীকে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় নামিয়ে দেন লোকমান। এরপর নিজের মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে এবং ঘটনার পর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে কিশোরী বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে সবকিছু খুলে বলে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
এ ঘটনায় গত ১০ অক্টোবর চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় মামলা দায়ের করে কিশোরীর পরিবার। মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত লোকমানকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। ওই অভিযানের ধারাবাহিকতায় ১১ অক্টোবর রোববার ভোরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন কুমার দে বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর রোববার ভোরে আসামি লোকমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা যথাযথভাবে তদন্ত করা এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কিশোরীদের ক্ষেত্রে বিয়ের প্রলোভন, প্রতারণা কিংবা জোরপূর্বক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
চট্টগ্রামের এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হলেও তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি এবং মামলার অন্যান্য তথ্য সামনে আসবে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।