নিজস্ব প্রতিবেদক:
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক পরিবহন সংস্থার কেরানীগঞ্জের কাওটাইল, ব্রাক্ষণগাঁও শাখার শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাওলানা ফিরোজ আলমের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়।
বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সরকারের রেজিস্ট্রেশন (রেজিঃ নং বি-৪৬১০) পাওয়ার পর থেকে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল, নিবন্ধন এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো তদারকি করে যাচ্ছে। এই সংস্থার মাধ্যমে বাল্কহেড মালিক ও মাস্টারদের নির্দেশনা প্রদান, নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধ বা ফিটনেসবিহীন বাল্কহেড চলাচল বন্ধেও কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতি একত্রে মিলেমিশে কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক পরিবহন সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ বোরহান মিয়া (বুলু)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ শাহ আলম, সভাপতি, BNSF; মোঃ রাজিব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক পরিবহন সংস্থা (কেন্দ্রীয় কমিটি); মোঃ সুরুজ মিয়া ও মোঃ মামুনুর রশিদ, উপদেষ্টা, বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক পরিবহন সংস্থা; হাজী মোঃ সফি, সভাপতি, বাংলাদেশ বাল্কহেড বোট মালিক সমিতি; মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সভাপতি, বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশন (বাল্কহেড); মোঃ মুর্তোজা সরকার, সভাপতি, বাল্কহেড মালিক সমিতি, মতলব উত্তর; মোঃ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক, মুন্সীগঞ্জ বাল্কহেড মালিক সমিতি এবং হাজী মোঃ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক, পোস্তগোলা লৌহ ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।
বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশন, বাল্কহেড কমিটির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের ১৭–১৮টি সংস্থা থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যক্রম দেখাতে পারেনি। আমরা যে কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা করেছি, তা কখনো পাইনি। বর্তমানে এই সংস্থা তার প্রতিফলন ঘটাবে বলে আশা করছি। আমরা মালিকগণ সব সময় অবহেলিত। আমাদের মালিকপক্ষের ঐক্য না থাকার কারণে আমরা পিছিয়ে পড়ি। কোনো সংগঠনের যে কোনো সদস্য আরেক সদস্যের সঙ্গে অমিল হলেই সে অন্য জায়গায় গিয়ে আরেকটি সংগঠন তৈরি করে—এটা কখনোই ঠিক নয়। আমরা সকলে একটি সংগঠনের ছায়াতলে থেকে কাজ করলে যত বড় সমস্যাই হোক না কেন, তা সহজেই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। আমি আশা করছি, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের অনেক মালিক সমিতি রয়েছে, কিন্তু সেন্ট্রালে গুরুত্বপূর্ণ সমিতি না থাকায় সরকারের সঙ্গে কো-অপারেটিভ করার যোগ্যতা নেই। তবে এই সংস্থার কেন্দ্রীয় সভাপতি বোরহান মিয়া (বুলু) অনেক ধৈর্যের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এগিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা মালিকপক্ষ সব সময় তার সঙ্গে একত্রে থেকে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তাকে কাজ করার সুযোগ করে দেবেন।
এ সময় অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক পরিবহন সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ বোরহান মিয়া (বুলু) তার বক্তব্যে বলেন, আমরা মালিকপক্ষ যারা আছি, আমাদের ঐক্য না থাকায় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বাংলাদেশের সরকারি সবচেয়ে ভিআইপি এলাকা—গুলশান, বনানী, বারিধারা, ডিওএইচএসের মতো জায়গায় আমাদের বাল্কহেডের মাধ্যমে বালি ফেলে বিশাল দামী জায়গা তৈরি হয়েছে, অথচ সরকার এই বাল্কহেড মালিকদের বিভিন্ন সময় হয়রানি করে। যে কোনো জায়গায় কোনো সমস্যা হলে শুধু বাল্কহেডের ওপরই দায় চাপানো হয়। আমরা বাংলাদেশ সরকারকে সর্বোচ্চ ট্যাক্স প্রদান করি, অথচ সরকারের কাছে আমরা অমূল্যায়িত—কারণ আমাদের মালিকপক্ষের ঐক্য নেই। আমরা বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজি ও পুলিশের হয়রানির শিকার হই। এসব হয়রানি বন্ধে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আর অবহেলিত হতে চাই না। সরকার আমাদের নির্দেশনা না দিয়ে আমাদের ওপর যে দায় চাপিয়ে দেন, তার বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার হবো। আমরা মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষ—একজন আরেকজনের পরিপূরক। আমাদের শ্রমিকরা বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হন। আমরা মালিকপক্ষ সব সময় তাদের পাশে থেকে সাহস জোগাবো। তাহলে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো। কখনো তাদের আলাদা করে দেখবো না।
তিনি বলেন, আমি আজ আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় এই পর্যন্ত এসেছি। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি যেন আগামী দিনে এই সেক্টরের যত সমস্যা থাকবে, আমি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের জন্য আমৃত্যু চেষ্টা করে যেতে পারি।
সর্বশেষ দোয়া-মোনাজাত ও দুপুরের খাবারের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।