বিপদে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে কল করুন ৯৯৯, ঈদুল আযহায় নিরাপদ ঘরে ফেরার প্রতিশ্রুতি নিয়ে সক্রিয় পুলিশ ও বিআরটিএ

মোঃআনজার শাহ

ঈদ মানে ঘরে ফেরার আনন্দ। ঈদ মানে বহুদিন পর প্রিয়জনকে বুকে জড়িয়ে ধরার অনুভূতি। কিন্তু প্রতিবছর সেই ঘরে ফেরার পথে অপেক্ষা করে থাকে বাড়তি ভাড়ার জুলুম, বেপরোয়া গাড়ির আতঙ্ক আর সড়ক দুর্ঘটনার মর্মান্তিক ছায়া। এবার সেই পুরোনো দুঃস্বপ্নের দরজা বন্ধ করতে সরাসরি মাঠে নামছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। গত মঙ্গলবার ২৩ মে ২০২৬ ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বিপিএম-সেবা স্বাক্ষরিত এক কঠোর গণবিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে, এবার আইন মানতেই হবে, কোনো ছাড় নেই।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি কঠোর নির্দেশ

বাড়তি ভাড়া মানেই আইনি ব্যবস্থা

ঈদের সুযোগে যাত্রীদের পকেট কাটার দিন শেষ। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে এক টাকাও বেশি আদায় করা যাবে না। যে মালিক বা শ্রমিক এই নির্দেশ অমান্য করবেন, তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই সিট দুজনকে বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

একটি সিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা এবং যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হয়রানি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বাসের সময়সূচি অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে নির্দিষ্ট সময়ে বাস ছাড়তে হবে।

ছাদে যাত্রী বহন মানেই জীবন নিয়ে ছেলেখেলা

বাসের ছাদে এবং পণ্য বা পশুবাহী যানবাহনে কোনো যাত্রী বহন করা যাবে না। এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে চালক ও মালিক উভয়কেই জবাবদিহি করতে হবে।

বেপরোয়া গতি মানেই মৃত্যুর আমন্ত্রণ

গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে। রাস্তার বাঁকে, সরু সেতুতে এবং ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকায় ওভারটেকিং করা যাবে না। একটি মুহূর্তের বেপরোয়া সিদ্ধান্ত কেড়ে নিতে পারে অনেক নিষ্পাপ প্রাণ।

ক্লান্ত বা মাদকাসক্ত চালক স্টিয়ারিং ধরবেন না

মাদক সেবন করে, ঘুমঘুম ভাব নিয়ে বা শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ক্লান্ত চালকের একটি ভুল সিদ্ধান্তই ঘটাতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

গাড়ি চালাতে বসলে মোবাইল থাকুক পকেটে

গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা এয়ারফোন ব্যবহার এবং উচ্চশব্দে গান বাজানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। স্টিয়ারিং ধরলে সম্পূর্ণ মনোযোগ থাকতে হবে সড়কে।

বৈধ কাগজ ছাড়া রাস্তায় নামার সুযোগ নেই

বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না। মালিকদের চালক নিয়োগের আগে অবশ্যই লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করতে হবে।

একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি চালানো সম্পূর্ণ নিষেধ

মালিক কর্তৃক চালককে একটানা পাঁচ ঘণ্টা এবং দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করা যাবে না। ক্লান্তিই সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় কারণ।

যাত্রীরা যা মানলে বাঁচবে জীবন ও সম্পদ

টার্মিনাল থেকে উঠুন, রাস্তার পাশ থেকে নয়

রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে বাসে না উঠে নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা কাউন্টার থেকে বাসে উঠুন। এতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।

অপরিচিতের খাবার গ্রহণ করবেন না

পথে অপরিচিত কেউ খাবার বা পানীয় দিলে তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। এটি আপনার জীবনের নিরাপত্তার সরাসরি প্রশ্ন।

নিজের মালামাল নিজেই সামলান

যাত্রাপথে সবসময় নিজের মালামাল নিজের দায়িত্বে রাখুন। অসতর্ক একটি মুহূর্তেই ঘটতে পারে চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা।

সময়ের আগেই পৌঁছান টার্মিনালে

বাস ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই কাউন্টার বা টার্মিনালে হাজির হোন। শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়োই ডেকে আনে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ।

রাস্তা পারাপারে ব্যবহার করুন ফুটওভারব্রিজ

ফুট ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করুন। ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হওয়া মানেই নিজেকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া।

চলন্ত গাড়িতে উঠানামা করবেন না

চলন্ত যানবাহনে ওঠা বা নামা এবং পণ্য বা পশুবাহী যানবাহনে যাত্রী হিসেবে যাতায়াত করা মানেই নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলা।

পথচারীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা

রাস্তা পারাপারে সবসময় জেব্রা ক্রসিং, ফুট ওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করুন। মোবাইলে কথা বলতে বলতে বা দৌড়ে রাস্তা পার হওয়া থেকে বিরত থাকুন। সবসময় ফুটপাত দিয়ে হাঁটুন। এটুকু সতর্কতাই আপনার মূল্যবান জীবন রক্ষা করতে পারে।

বিপদে পড়লে এক মুহূর্তও দেরি নয়, কল করুন এখনই

ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়, দুর্ব্যবহার, সড়ক দুর্ঘটনা বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য যোগাযোগ করুন।

জাতীয় জরুরি সেবা: ৯৯৯

বিআরটিএ হটলাইন: ০১৫৫০-০৫১৬০৬

বিআরটিএ হটলাইন: ০১৫৫০-০৫৬৫৭৭

বিআরটিএ হটলাইন: ০১৫৫০-৭২২০৬৫

বিআরটিএ হটলাইন: ০১৫৫০-৭২২০৬৬

বিআরটিএ অফিস: ০২-৫৫০৫৮১৮১

সরকারি তথ্যসেবা: ৩৩৩

এ ছাড়া যেকোনো টার্মিনালে অবস্থিত পুলিশ কন্ট্রোল রুমেও সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে।

প্রিয়জনের কাছে নিরাপদ ফেরাই সবচেয়ে বড় ঈদের উপহার

ঈদের দিন প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটাতে চাইলে পথে একটু সচেতন থাকুন। পরিবহন মালিক-শ্রমিক থেকে শুরু করে যাত্রী ও পথচারী, সকলে মিলে নিয়ম মানলেই এবারের ঈদযাত্রা হবে নিরাপদ, আনন্দময় ও স্মরণীয়।

মনে রাখবেন, বাড়তি ভাড়া দেবেন না, অভিযোগ করুন। বেপরোয়া চালক দেখলে জানান। আপনার একটি ফোনকলই বাঁচাতে পারে একটি তাজা জীবন।

ঈদ মোবারক। নিরাপদে যান, সুস্থে ফিরুন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *