ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলাকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুর্যোগকবলিত দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের “নতুন ও মহান বন্ধু” উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প নিয়ে আমরা যে তথ্য পেয়েছি, তাতে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই সংকটময় সময়ে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পাশে থাকবে। আমি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের নতুন এবং মহান বন্ধুদের সহায়তায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্দাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানান, ভেনেজুয়েলার সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের কাজ চলছে।
ভেনেজুয়েলায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি রয়েছে।
বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটের দিকে ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং মাত্র ৪০ সেকেন্ড পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগুয়েজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জিওলোকেশন করা একাধিক ভিডিওতে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। কিছু এলাকায় পাহাড়ের ঢালে নির্মিত ভবন ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। আতঙ্কিত মানুষজনকে পরিবার-পরিজন ও পোষা প্রাণী নিয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাসে বিভিন্ন ভবন ও বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ৭ শতাধিক মানুষ। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধারকারী দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেল্লো রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, “অনেক ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে। আমাদের কাছে থাকা সব সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছি।”
তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে এখনও কাজ চলছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।