মাঝরাতে বরুড়া বাজারের গোল চত্বরে হাজির ইউএনও আসাদুজ্জামান রনি, উন্নয়নকাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন

মোঃআনজার শাহ

রাত তখন গভীর। শহরের মানুষ ঘুমে। রাস্তাঘাট নিস্তব্ধ। কিন্তু বরুড়া বাজারের গোল চত্বরের নির্মাণকাজ তখনও চলছে। আর সেই নির্মাণস্থলে হঠাৎ আলো ফেলে এসে দাঁড়ালেন একজন মানুষ। তিনি অফিসের চেয়ারে আরামে বসে থাকার সুযোগ ছেড়ে গভীর রাতে সরেজমিন ছুটে এসেছেন শুধু একটাই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে, কাজটা ঠিকমতো হচ্ছে কিনা। তিনি বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আসাদুজ্জামান রনি।

গভীর রাতে এই আকস্মিক পরিদর্শন দেখে নির্মাণশ্রমিক থেকে শুরু করে স্থানীয় মানুষ সকলেই অবাক হয়ে গেলেন। কারণ এমন কর্মকর্তা বরুড়া খুব কমই দেখেছে।

দায়িত্বের নতুন সংজ্ঞা

বরুড়া বাজার এলাকার গোল চত্বরসহ অন্যান্য উন্নয়নকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই কাজের মান নিশ্চিত করতে এবং নির্মাণে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কিনা তা যাচাই করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আসাদুজ্জামান রনি গভীর রাতে সরেজমিন পরিদর্শনে বের হন।

এই ধরনের আকস্মিক রাতকালীন পরিদর্শনের ফলে নির্মাণকাজে যে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত হয়, তা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। ঠিকাদার থেকে শুরু করে শ্রমিক সকলেই জানলেন, কাজে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ যেকোনো সময়, এমনকি গভীর রাতেও, দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এসে হাজির হতে পারেন।

জনমনে প্রশংসার ঢেউ

ইউএনও আসাদুজ্জামান রনির এই রাতকালীন পরিদর্শনের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় মহলে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সচেতন নাগরিক সমাজ সকলেই এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনেক সময়ই শোনা যায়। কিন্তু যখন একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিজে গভীর রাতে কাজের মান যাচাই করতে মাঠে নামেন, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কাজে শৃঙ্খলা ফিরে আসে এবং সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

উন্নয়নের পথে নিবেদিতপ্রাণ একজন কর্মকর্তা

ইউএনও আসাদুজ্জামান রনির এই কর্মনিষ্ঠা বরুড়ার উন্নয়নের ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। একজন সরকারি কর্মকর্তা যখন নিজের আরাম ও বিশ্রামকে উপেক্ষা করে জনগণের সেবায় রাতের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে মাঠে নামেন, তখন প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধ আরও মজবুত হয়।

বরুড়াবাসী আশা করেন, এই নিষ্ঠা ও কর্মস্পৃহা অব্যাহত থাকবে এবং উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়নে এটি আরও গতি সঞ্চার করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *