মীরসরাইয়ে কারখানায় দুর্ঘটনা, চীনা প্রকৌশলীসহ তিনজনের মৃত্যু

মীরসরাই প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ফার্মিক স্টিল লিমিটেড কারখানায় ফার্নেসের ত্রুটির কারণে গলিত লোহা ছিটকে দগ্ধ চারজনের মধ্যে চীনা প্রকৌশলীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং (৫৩)।

এর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে দুর্ঘটনায় দগ্ধ চারজনের মধ্যে তিনজন মারা গেলেন। আহত অপর শ্রমিক জুয়েল (৩৬) বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

নিহতরা হলেন চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং (৫৩), শ্রমিক শরিফুল ইসলাম (২৭) ও মনির হোসেন (২৭)। শরিফুল ইসলাম ও জেংলিং হং ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এবং মনির হোসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

কারখানা সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফার্মিক স্টিল লিমিটেড কারখানায় ফার্নেসের ত্রুটির কারণে গলিত লোহা ছিটকে চারজন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনজনকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শরিফুল ইসলাম ও চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হংকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শরিফুল ইসলামের মৃত্যু হয়। একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ গ্রামের মনির হোসেন (২৭)।

সর্বশেষ ৩ অক্টোবর সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং। চীনা নাগরিকদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সুমন হোসেন তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত শরিফুল ইসলাম খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. সেলিম। শরিফুলের দুটি ছোট সন্তান রয়েছে।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, ২৮ সেপ্টেম্বরের দুর্ঘটনায় দগ্ধ চারজনের মধ্যে চীনা প্রকৌশলীসহ তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। কারখানার প্রতিনিধি ও নিহত শরিফুলের স্বজনেরা থানায় এসেছেন। তাদের আইনি বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরিবার মামলা না করলেও পুলিশ মামলা করতে পারে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *