মোহাজের পাড়ার নারী উদ্যোক্তা জাহানারা ইসলামের জমি দখল, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

মোহাম্মদ হোসেন সুমন:

কক্সবাজার শহরের মোহাজের পাড়ার বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা, সমাজসেবী ও নারী উন্নয়ন সংগঠক জাহানারা ইসলাম তার মালিকানাধীন জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জবরদখল, লুটপাট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ঘটনায় তিনি পুলিশ সুপার, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী জাহানারা ইসলাম কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি, “জাহানারা গ্রীন এগ্রো”-এর স্বত্বাধিকারী এবং বহুমুখী মহিলা উন্নয়ন সমিতির সভানেত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নারী উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

জানা যায়, কক্সবাজারের পিছিয়ে পড়া নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে তিনি ২০০৫ সালে “বহুমুখী মহিলা উন্নয়ন সমিতি” গঠন করেন। সংগঠনটির মাধ্যমে নারী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন কর্মমুখী ও অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে নারীদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

নারী উন্নয়ন ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ২০২৫ সালে “জয়িতা পুরস্কার”সহ বিভাগীয় পর্যায়ে একাধিক সম্মাননা লাভ করেন।

জাহানারা ইসলাম জানান, তার স্বামী উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের টানা প্রায় ৩০ বছরের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি সন্তানদের নিয়ে কক্সবাজার শহরের নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করে আসছেন এবং একই সঙ্গে ব্যবসা ও নারী উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ওয়ারিশ ও আম-মোক্তারনামা সূত্রে প্রাপ্ত কক্সবাজার সদর মৌজার বিএস ৬৬ নম্বর খতিয়ানভুক্ত জমির বৈধ মালিক তিনি। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।

তিনি আরও জানান, ১৯৮৫ সালে ওই জমির ওপর “আনোয়ার ফিড মিলস” নামে একটি পোল্ট্রি খাদ্য উৎপাদনকারী মিল প্রতিষ্ঠা করা হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়ভাবে একটি পরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম অর্জন করে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের সুযোগে তার কয়েকজন সাবেক কর্মচারী ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি পরস্পর যোগসাজশে জমি ও মিল দখলের পরিকল্পনা করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে মিল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে জোরপূর্বক দখল নেয়। এ সময় মিলের দুটি গ্রাইন্ডার মেশিন, দুটি মিক্সার মেশিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি কারখানায় মজুত থাকা কাঁচামাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুটপাট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, এসব ঘটনায় তার প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অভিযোগ করার পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে অভিযুক্তরা তার আরও প্রায় ১০ শতক জমি জবরদখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে ভোগদখল করছে।

জমি উদ্ধারের বিষয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং অস্ত্রের মহড়া প্রদর্শনের মাধ্যমে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ করেন জাহানারা ইসলাম। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয়দের সহায়তায় সেখান থেকে চলে আসেন বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় গত ২ জুন কক্সবাজার পুলিশ সুপার বরাবর ৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন—

১. রুহুল কুদ্দুস (৫২), পিতা-মৃত নুর আহম্মদ, সাং-মোহাজের পাড়া, ১০ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা।
২. ইলিয়াছ মিয়া (৩৩), পিতা-রুহুল কুদ্দুস, সাং-মনুপাড়া, খুরুশকুল ইউনিয়ন।
৩. ওয়াসিম (৪০), পিতা-মৃত উলা মিয়া, সাং-টাইমবাজার, খুরুশকুল ইউনিয়ন।
৪. তাজউল ইসলাম (৩৫), কক্সবাজার পৌরসভা।
৫. ছব্বির আহাম্মদ (৬০), পিতা-মৃত ইব্রাহিম, সাং-মোহাজের পাড়া, ১০ নম্বর ওয়ার্ড, কক্সবাজার পৌরসভা।

এছাড়াও তিনি ২৭/০৩/২০২৪ তারিখে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ নং-১১/১২/২৪ এবং পুলিশ সুপার, কক্সবাজার বরাবর অভিযোগ নং-০২/০৬/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ১২/০৫/২০২৫ তারিখে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সদর, কক্সবাজারেও অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগী জাহানারা ইসলাম প্রশাসনের কাছে তার খতিয়ানভুক্ত জমি উদ্ধার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষা, লুট হওয়া মালামালের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।

মূল লেখার তথ্য, বক্তব্য ও কাঠামো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে; শুধু বানান, যতিচিহ্ন ও ভাষার সামান্য শুদ্ধি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *