স্বাধীন আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক (MoU) বা ভবিষ্যৎ চুক্তি ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে তা অবশ্যই পূরণ করতে হবে—এতে কোনো অজুহাত বা ব্যাখ্যার সুযোগ থাকবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, “যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে, তা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। কোনো অজুহাত, কোনো শর্ত বা কোনো ব্যাখ্যার সুযোগ নেই।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, “সামনের সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে এর বাইরে আর কোনো পথ নেই। যেমন বপন করবে, তেমনই ফল পাবে।”
আলোচনা ও কূটনৈতিক অগ্রগতি
চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে একটি বিস্তৃত চুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তার মতে, এই কাঠামো দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং তারা একটি প্রাথমিক সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও সম্ভাব্য শর্ত
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য জেনেভা সফর করতে পারেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
তবে চুক্তি সই হলেও কিছু কারিগরি ও নীতিগত বিষয় অমীমাংসিত থাকতে পারে, যেগুলো পরবর্তীতে আরও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এসব আলোচনা পাকিস্তানের ইসলামাবাদেও হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের কারণে যেকোনো সমঝোতা কার্যকর করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং আস্থার সংকট—এই তিনটি বিষয়ই আলোচনার মূল বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত থাকলেও চূড়ান্ত চুক্তি এখনো অনিশ্চিত। তবে উভয় পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।