Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home/u102988081/domains/dailyswadhinsangbad.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা বর্জন মহানগর বিএনপির - দৈনিক স্বাধীন সংবাদ

রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা বর্জন মহানগর বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার:

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সিলেট সফর উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠানে সাবেক আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকেই আমন্ত্রণ পেলেও দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের একটি অংশ আমন্ত্রণ থেকে বাদ পড়েছেন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক দিনের সফরে সিলেটে আসেন। সফরকালে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবন প্রাঙ্গণে তাঁর সম্মানে নাগরিক সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

তবে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়। সিলেট মহানগর বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, যথাযথ প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ ও মূল্যায়ন না করেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ কারণে দলের মহানগর পর্যায়ের নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কয়েস লোদীসহ নেতাদের বর্জন

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সিসিক উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নামও আলোচনায় এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতা ও যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগ তুলে অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকার কথা জানানো হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক নেতাদের বর্জনের কারণ হিসেবে কারও ব্যক্তিগত বক্তব্য ও দলের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই আমন্ত্রণের তালিকা ও আয়োজনের বিষয়ে সিসিকের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমন্ত্রণের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন

বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক সময়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা অনেক নেতাকর্মীকে নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অথচ অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন—এমন কয়েকজনকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তাদের প্রশ্ন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তিকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে কী ধরনের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং কারা আমন্ত্রিত হয়েছেন, সেই তালিকা কীভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

তবে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে কারা আমন্ত্রণ পেয়েছেন এবং আমন্ত্রণের ক্ষেত্রে তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে—এ বিষয়ে সিসিকের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তালিকা বা ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি।

সংবর্ধনা বয়কট মহানগর বিএনপির

আমন্ত্রণ ও আয়োজন নিয়ে অসন্তোষের জেরে সিলেট মহানগর বিএনপি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করে। মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন জানান, দলের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যথাযথভাবে আমন্ত্রণ না পাওয়া এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ থেকেই মহানগর বিএনপির নেতারা এ সিদ্ধান্ত নেন।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপির আরও কয়েকজন নেতাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

স্বচ্ছ আমন্ত্রণ তালিকার দাবি

রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে কারা আমন্ত্রণ পেয়েছেন, কী বিবেচনায় তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং কারা বাদ পড়েছেন—এসব বিষয় নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আমন্ত্রণের তালিকা প্রকাশ করা হলে এ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, নাগরিক সংবর্ধনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল বলে অনুষ্ঠান-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে আমন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ও নাগরিক সংবর্ধনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—সিসিকের উদ্যোগে আয়োজিত রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কীভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলো এবং দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেক নেতাকর্মী কেন আমন্ত্রণের বাইরে থাকলেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *