আনজার শাহ:
মানুষের মধ্যে যে সকল গুণাবলি একজন আদর্শ প্রশাসনিক কর্মকর্তার জন্য অপরিহার্য—সততা, ন্যায়পরায়ণতা, মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও কর্মদক্ষতা—তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দুর্গাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজুর কর্মকাণ্ডে। উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মুখে এখন একটাই কথা—তিনি একজন অত্যন্ত ভালো, সৎ ও জনবান্ধব কর্মকর্তা।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি কমানো এবং সরকারি সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নামজারি, খাজনা আদায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি, রেকর্ড সংশোধনসহ ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলোতে তিনি সরাসরি তদারকি নিশ্চিত করেছেন। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও অনিয়ম অনেকাংশে কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অতীতে ভূমি অফিসে গিয়ে দিনের পর দিন ঘুরেও কাজ না হওয়ার অভিযোগ ছিল। কিন্তু লায়লা নূর তানজুর দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেবা পাওয়া যাচ্ছে, ঘুষ ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে অসহায় মানুষ, প্রবীণ নাগরিক, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি তাঁর সহানুভূতিশীল আচরণ এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।
একাধিক সেবাগ্রহীতা জানান, তিনি নিজে সময় নিয়ে মানুষের কথা শোনেন এবং আইন ও বিধিমালার আলোকে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেন। এতে সাধারণ মানুষ প্রশাসনের প্রতি নতুন করে আস্থা ফিরে পাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন কর্মকর্তা যখন মানবিকতা ও পেশাদারিত্ব একসঙ্গে ধারণ করেন, তখনই প্রশাসনিক সেবা মানুষের জন্য সত্যিকার অর্থে কার্যকর হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু বলেন,
“সরকারি নীতিমালার মধ্যে থেকেই সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করা আমার দায়িত্ব। ভূমি সেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করাই আমার মূল লক্ষ্য। আমি বিশ্বাস করি, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় প্রকৃত ভুক্তভোগীরা যেন দ্রুত ও ন্যায়সংগত সমাধান পান, সে বিষয়ে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও লায়লা নূর তানজুর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, তাঁর মতো দক্ষ ও মানবিক কর্মকর্তা থাকলে ভূমি প্রশাসনে দীর্ঘদিনের নেতিবাচক ধারণা বদলে যাবে। তাঁরা মনে করেন, এই ধরনের কর্মকর্তারা প্রশাসনের প্রতি জনগণের বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা আরও সুদৃঢ় করতে সক্ষম।
সবমিলিয়ে বলা যায়, দুর্গাপুর উপজেলায় জনবান্ধব ভূমি প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু একটি ইতিবাচক ও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর এই আন্তরিক ও দায়িত্বশীল কর্মধারা স্থানীয় জনগণের কাছে প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক সেবায় নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।