নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের সব বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদ্রাসার বিদ্যমান ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। এ লক্ষ্যে দ্রুত অ্যাডহক কমিটি গঠনের অনুমতি নিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম তৌহিদুজ্জামানের স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (দাখিল ও আলিম স্তরের বেসরকারি মাদ্রাসার গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০২৫-এর ক্ষমতাবলে দেশের বিদ্যমান বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত অ্যাডহক কমিটি গঠনের অনুমতি নিয়ে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে গত ২ আগস্ট বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের জারি করা নির্দেশনাও বহাল থাকবে।
এদিকে মাদ্রাসার কমিটির সভাপতি মনোনয়নের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের সংশোধিত প্রবিধানমালার ৬৪-এর উপ-প্রবিধান (৩) অনুযায়ী, মাদ্রাসা প্রধান স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সভাপতি মনোনয়নের জন্য তিনজনের একটি তালিকা পাঠাবেন।
ওই তালিকায় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, খ্যাতিমান সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি অথবা কর্মরত কিংবা অবসরপ্রাপ্ত নবম গ্রেড বা তার ওপরে পদমর্যাদার সরকারি কর্মচারীদের রাখা যাবে।
তবে সিটি করপোরেশন এলাকার মাদ্রাসার ক্ষেত্রে মাদ্রাসা প্রধান বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের কাছে সভাপতি মনোনয়নের প্রস্তাব পাঠাবেন।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এ নির্দেশনা দেশের সব স্তরের মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, সুপার, প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সভাপতি ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান কমিটিগুলো পুনর্গঠনের বিষয়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড নতুন করে এ নির্দেশনা জারি করেছে।