স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের মানুষ। প্রায় সব গ্রামই বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার ৬ নম্বর এওচিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গাঠিয়াডেঙ্গা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীরপাড়া (প্রকাশ ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলমের পাড়া) এলাকা। সেখানে ডলু নদীর প্রায় ১০০ ফুট অংশ ভেঙে যাওয়ায় অন্তত ১৯টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাংবাদিক আব্বাস উদ্দিন ইকবাল। তাঁর ছোট ভাই তারে উদ্দিন আহসানের সহযোগিতায় নিজস্ব অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় অর্ধশত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আব্বাস উদ্দিন ইকবালের সম্মানিত পিতা, সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম।
ত্রাণ বিতরণকালে আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম বলেন, ভয়াবহ বন্যায় গ্রামগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনো অনেক এলাকায় সরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তা পৌঁছায়নি। স্থানীয় ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও কিছু পরিবারের উদ্যোগেই সীমিত পরিসরে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এতে দুর্গত মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তিনি দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বন্যার কারণে কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে, অনেক গবাদিপশু মারা গেছে বা ভেসে গেছে। ফলে বহু পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস নষ্ট হয়ে পড়েছে এবং খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত মানুষ নানা ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক এলাকায় মোবাইল টাওয়ার অচল হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বন্যাকবলিত মানুষের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত নসিহত করা হয়। বক্তারা সবাইকে ধৈর্য ধারণ, নিয়মিত সালাত আদায়, তওবা-ইস্তিগফার এবং মহান আল্লাহ তাআলার সাহায্য কামনার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
প্রতিটি পরিবারের জন্য দেওয়া ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল ৮ কেজি চাল, আধা কেজি মসুর ডাল, আধা কেজি চিনি, ৩ কেজি পেঁয়াজ, ৪ কেজি আলু, ১ কেজি লবণ, ১টি ডেটল সাবান, ১ প্যাকেট কাপড় ধোয়ার সাবান, ১টি দাঁতের মাজন, ১ কেজি চিড়া, আধা কেজি মুড়ি, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ ডজন ডিম, ১০০ গ্রাম করে মরিচ, হলুদ ও ধনিয়ার গুঁড়া, ২৫০ গ্রাম রসুন এবং ১টি গ্যাস ম্যাচ। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তাও প্রদান করা হয়।
ত্রাণ প্রদান শেষে সাংবাদিক আব্বাস উদ্দিন ইকবাল ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি কেবল ত্রাণ নয়, বরং দুর্গত মানুষের জন্য তাদের পরিবারের আন্তরিক উপহার। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা বলেন, দুঃসময়ে মানুষের পাশে থাকতে পেরে তারা আনন্দিত এবং মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছেন।
এ সময় তারা সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মানবিক সংগঠন এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের প্রতি বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। স্থানীয় এলাকাবাসীও এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুর্যোগের এই সময়ে ব্যক্তি উদ্যোগে এমন সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অনেক বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।