আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সৌদি আরবে হুথিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। বৃহস্পতিবার দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারির পর এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়। একই সময়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ইয়ানবু সুরক্ষায় সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে ফ্রান্স।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, হুথিদের ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাইফ ও ইয়ানবুকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। হুথিদের পক্ষ থেকেও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে।
হামলার আগে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ মক্কাসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করে। সতর্কতার আওতায় ছিল লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু, তাইফ, জেদ্দা ও তাবুক অঞ্চল। কয়েক মিনিট পর এসব সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি বলেন, হুথিদের উসকানি ও লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরানের অস্বীকার
হুথিদের সামরিক কর্মকাণ্ডে ইরানের সরাসরি নির্দেশনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ফক্স নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, হুথিরা নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য নিজেরাই দায়ী। আঞ্চলিক প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর মতো তারাও নিজেদের পরিস্থিতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় এবং ইরানের কাছ থেকে নির্দেশনা নেয় না।
ইয়ানবু সুরক্ষায় ফ্রান্সের সহায়তা
সৌদি আরবের ওপর চাপ বাড়ার মধ্যে ইয়ানবুর নিরাপত্তা জোরদারে ফ্রান্সের সামরিক সক্ষমতা পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।
তিনি জানান, এর মধ্যে সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকতে পারে। লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত ইয়ানবু সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর একটি কেন্দ্র।
ইয়ানবুতে বড় ধরনের তেল সংরক্ষণাগার ও পরিশোধনাগার রয়েছে। পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে অঞ্চলটি সৌদি আরবের তেল উৎপাদনকারী এলাকার সঙ্গে যুক্ত। লোহিত সাগরের তীরে অবস্থানের কারণে ইউরোপের বাজারে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রেও ইয়ানবু গুরুত্বপূর্ণ।
ইয়েমেনে তীব্র সংঘর্ষ
সৌদি আরবে হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকাতেও হুথি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে।
এএফপিকে দেওয়া বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় উভয় পক্ষের বহু সদস্য নিহত হয়েছেন। বাব আল-মান্দাব প্রণালীর দিকে নজর রাখা কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়াকে কেন্দ্র করেও সংঘর্ষ হয়েছে।
সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সূত্রগুলোর দাবি, নিহতদের মধ্যে তাদের বেশ কয়েকজন সদস্য ও সেনা রয়েছেন। অন্যদিকে হুথি সূত্রগুলোও তাদের যোদ্ধাদের নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে।
হুথিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বয়ে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ সৌদি আরবের কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রের গুদামকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
এ ছাড়া হুথিদের পক্ষ থেকে ইয়ানবুতে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর অবকাঠামো এবং রিয়াদের একটি স্থাপনায় হামলার দাবিও করা হয়েছে।
তবে এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা নিয়ে লড়াই
ইয়েমেনের কাহবুব পাহাড় এবং লাহজ ও তাইজ অঞ্চলের মধ্যবর্তী এলাকাতেও উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালীর দিকে থাকা উঁচু পাহাড়ি এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
জুলাইয়ে হুথি ও ইয়েমেন সরকারের মধ্যে ২০২২ সাল থেকে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। এরপর সৌদি আরব ও ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে।