সৌদির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা নিয়ে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সৌদি আরবের চলমান পরিস্থিতির কারণে আটকে পড়া বাংলাদেশি প্রবাসীদের যাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তাঁদের বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য এখনো উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

নুরুল হক নুর বলেন, যেসব প্রবাসী কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাঁদের বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। অতীতেও এ ধরনের সমস্যার সমাধানে আলোচনা হয়েছে। তবে সৌদি আরব নিজেই যখন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উপযুক্ত সময় নয়।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কর্মীদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

প্রবাসীদের সহায়তায় দূতাবাসের ভূমিকা

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরবসহ ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাস আগের চেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। রিয়াদে হামলার পর দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নিয়েছেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। দেশটি যখন দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে, তখন শুধু সহায়তা চাওয়ার পরিবর্তে তাদের পাশে দাঁড়ানোও বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব।

নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সহায়তা

নুরুল হক নুর জানান, যুদ্ধের কারণে নিহতদের পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় শ্রমচুক্তি অনুযায়ী কিছু কোম্পানি যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে। তবে ছোট প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগতভাবে কর্মরত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ তুলনামূলক কম হতে পারে।

সরকারি সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সহায়তা হিসেবে নিহতদের পরিবারকে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কর্মহীন হয়ে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে একদিকে কিছু মানুষ কর্মহীন হচ্ছেন, অন্যদিকে যুদ্ধ শেষ হলে পুনর্গঠন কার্যক্রমে বিপুলসংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন হবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে সেখানে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিকল্প শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ

প্রতিমন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানে সরকার কাজ করছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে সাফল্য এসেছে।

দেশে ফিরে আসা কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা ও অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে অন্য দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও সহায়তা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে প্রায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান। এ ছাড়া সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ব্যবস্থায় যেসব দেশে কর্মী পাঠানো হয়, সেখানেও তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।

প্রবাসীদের আইন মেনে চলার আহ্বান

এ সময় প্রবাসীদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুদ্ধসংক্রান্ত ভিডিও, অডিও ফুটেজ ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই বাংলাদেশি প্রবাসীদের এসব দেশের আইন ও বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *