স্পোর্টস ডেস্ক:
বিশ্বকাপের মহারণে আগামী রোববার (বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টা) নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এই ম্যাচ জিততে পারলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা, আর কোচ লিওনেল স্কালোনির নামও উঠে যাবে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অনন্য উচ্চতায়।
তবে এই ফাইনাল স্কালোনির জন্য শুধু পেশাগত অর্জনের লড়াই নয়, এটি পারিবারিক আবেগেরও একটি বিশেষ উপলক্ষ। কারণ, তার স্ত্রী এলিসা মন্টেরো স্পেনের নাগরিক এবং তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই দেশটিতে বসবাস করেন।
ফাইনালের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এ বিষয়ে স্কালোনি বলেন, “আমার স্ত্রী ও সন্তানরা অবশ্যই আর্জেন্টিনার পক্ষেই থাকবে। আমার স্ত্রী স্প্যানিশ হলেও তিনি জানেন আমি কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আর আমার সন্তানরা তো আরও ভালোভাবেই বিষয়টি বোঝে।”
২০০৮ সালে স্পেনের মায়োর্কায় স্কালোনি ও এলিসা মন্টেরোর পরিচয় হয়। সে সময় ইতালির লাৎসিও থেকে ধারে মায়োর্কা ক্লাবে খেলতে গিয়েছিলেন স্কালোনি। পরে তাদের সম্পর্ক পরিণয়ে গড়ায়। তাদের দুই ছেলে—ইয়ান ও নোয়া—দুজনেরই জন্ম মায়োর্কায়।
জন্মসূত্রে স্পেনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও দুই সন্তানই বাবার দেশ আর্জেন্টিনার সমর্থক। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ের উদযাপনে তাদের আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি পরে বাবার সঙ্গে উল্লাস করতে এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে।
স্ত্রীর পরিবারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে স্কালোনি বলেন, “মায়োর্কায় আমার স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা নিশ্চয়ই কিছুটা দ্বিধায় থাকবে। তাদের জন্য এটি সহজ নয়, আমি সেটা বুঝি। তবে যে দলই জিতুক, শেষ পর্যন্ত তারা খুশিই থাকবে।”
মায়োর্কায় থাকা এলিসার স্বজনরা স্বাভাবিকভাবেই স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের আশা করবেন। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা শিরোপা জিতলে স্কালোনির পরিবারের আরেক অংশের আনন্দেও তারা অংশীদার হবেন।
ফাইনাল নিয়ে নিজের অনুভূতি জানিয়ে স্কালোনি বলেন, “যদি আমরা জিততে না-ও পারি, তবুও এই পুরো যাত্রাটা ছিল অসাধারণ। আমরা যেভাবে এখানে পৌঁছেছি, সেটাই আমাদের জন্য গর্বের।”
এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালে তাই শুধু দুই ফুটবল পরাশক্তির লড়াই নয়, স্কালোনির পরিবারের ভেতরেও দেখা যাবে দুই দেশের আবেগের এক ভিন্ন গল্প।