আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালে আগুনে ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারি তদন্তে হাসপাতালটিতে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যাপক ঘাটতি ও চরম অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটে কোনো কার্যকর অগ্নিসংকেতব্যবস্থা বা স্প্রিংকলার ছিল না। পাশাপাশি জরুরি বের হওয়ার পথের কয়েকটি দরজা তালাবদ্ধ বা বাধাগ্রস্ত ছিল। এ ছাড়া আগুনে চিকিৎসা সরঞ্জাম গলে নবজাতকদের ওপর পড়ে যাওয়ার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।
এর আগে গত ২৬ আগস্ট পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে আগুনের সূত্রপাত হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির অবসরপ্রাপ্ত এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাটিকে ‘পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তদন্তে বলা হয়েছে, হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটে ধোঁয়া শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, ফায়ার অ্যালার্ম ও স্প্রিংকলার ব্যবস্থা কার্যকর ছিল না। আগুন লাগার পর নবজাতকদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইউনিটের কর্মীদের কোনো প্রশিক্ষণ বা মহড়া ছিল না। জরুরি পরিস্থিতিতে অক্সিজেন সরবরাহ কীভাবে বন্ধ করতে হয়, সে বিষয়েও কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি।
তদন্ত অনুযায়ী, ওই দিন ভোর ৬টা ৩৮ মিনিটে প্রথমবার আগুনের বিষয়টি টের পাওয়া যায়। তবে জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হয় ৬টা ৫৪ মিনিটে এবং উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান ৭টা ১ মিনিটে।
এদিকে আগুনের সবচেয়ে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে ইউনিটের এয়ার কন্ডিশনারের অতিরিক্ত উত্তপ্ত বৈদ্যুতিক তারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপর প্লাস্টিক, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আবর্জনায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অক্সিজেন আগুনের তীব্রতা বাড়িয়ে থাকতে পারে। তবে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পথ তৈরিতে অক্সিজেন ভূমিকা রেখেছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারকর্মীদের একজন বিবিসিকে জানান, হাসপাতালে ঢুকতেও তাদের ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়। কয়েকটি দরজা তালাবদ্ধ থাকায় জানালা ভেঙে প্রবেশ করতে হয়েছিল। আগুনে চিকিৎসা সরঞ্জাম গলে নবজাতকদের ওপর পড়ে যাওয়ার কথাও তিনি জানান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আগেও অগ্নিঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনার এক মাস আগে ওই হাসপাতালের নার্সিং হোস্টেলেও আগুন লেগেছিল। এরপরও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে উন্নত করা হয়নি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ তিন মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি কার্যালয় ও ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আট কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।