জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:
এএফসি অ-২০ টুর্নামেন্টের বাছাইপর্বে অংশ নিতে আজ রাতে উজবেকিস্তানের উদ্দেশে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ অ-২০ ফুটবল দল। তবে দেশ ছাড়ার আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোচ ও অধিনায়কের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন দলের ম্যানেজার সামিদ কাশেম।বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজার সামিদ কাশেম ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু। সাধারণত আন্তর্জাতিক সফরের আগে কোচ ও অধিনায়কের উপস্থিতিতে দলের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হলেও এবার তাদের ছাড়াই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কোচ-অধিনায়ক কিংবা কোনো খেলোয়াড় কেন সংবাদ সম্মেলনে নেই সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের মুখে সামিদ কাশেম বলেন, উজবেকিস্তানে বাংলাদেশের সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় দলকে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে যেতে হচ্ছে। খেলোয়াড় ও কোচদের মনোযোগে যেন ব্যাঘাত না ঘটে, সে কারণেই তাদের সংবাদ সম্মেলনে রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের সাধারণ রীতি নয়। এজন্য ম্যানেজার হিসেবে আমি দুঃখিত।’
দুই কোচের হাতাহাতি নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশ অ-২০ দলের ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের মুখে পড়েন ম্যানেজার।
জানা গেছে, গত বুধবার দুই কোচের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর একদিন পর জেরার্ড জোন্স হোটেলে পুলিশ ডাকেন। এ ঘটনায় দুই কোচের মধ্যে দূরত্বের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে দুজনই বাংলাদেশ দলের সঙ্গে উজবেকিস্তান সফরে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে সামিদ কাশেম বলেন, ‘এখন ক্যাম্পের পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সবাই ভালো মুডে রয়েছে।’
হাতাহাতির ঘটনার পর এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত শেষ করে কেন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সফরের আগে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাননি, যাতে সেটির নেতিবাচক প্রভাব দলের ওপর পড়ে। পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতেও কিছুটা সময় লেগেছে বলে জানান তিনি।
বক্তব্যে ভিন্নতা
ঘটনাটি নিয়ে ম্যানেজার সামিদ কাশেমের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে থাকা টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটুকেও প্রশ্ন করা হয়।
কোচ মিশু ঘটনার পরদিনই ফেডারেশনকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন কি না—এমন প্রশ্নে টিটু বলেন, ‘বুধবার জেরার্ড কিংবা মিশু কেউ জানায়নি। শুক্রবার আমাকে মিশু জানিয়েছে।’
কোচ নিয়ে আগেও বিতর্ক
বাংলাদেশ অ-২০ দলের কোচিং নিয়ে এর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সাফ টুর্নামেন্টের সময় ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্সের সার্টিফিকেট নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। পরে আরেক ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্স দায়িত্ব নিলেও তার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দুই কোচের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সামিদ কাশেম যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি দলের ম্যানেজারের দায়িত্বেও রয়েছেন। ক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ম্যানেজারের হওয়ায় দুই কোচের ঘটনার ক্ষেত্রে নিজেরও আংশিক দায় রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।
চূড়ান্ত পর্বে ওঠার লক্ষ্য
সংবাদ সম্মেলনে কোচ ও অধিনায়ক উপস্থিত না থাকায় দলের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ পাননি সাংবাদিকরা। তবে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু দলের প্রস্তুতি ভালো বলে জানিয়েছেন। ম্যানেজার সামিদ কাশেমও অ-২০ টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বে খেলার আশা প্রকাশ করেছেন।
বাছাইপর্বে আট গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল এবং সেরা সাত রানারআপ দল পরবর্তী পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। উজবেকিস্তান সফরে সেই লক্ষ্যেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ অ-২০ দল।