মুহাম্মদ জুবাইর:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত শনাক্ত, যাচাই ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিম কর্তৃক করণীয়” শীর্ষক একটি অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম-এর সভাপতিত্বে আজ সকাল ১১:৩০ ঘটিকায় Zoom অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তাগণ, অফিসার ইনচার্জগণ, ডিআইও-১, ওসি ডিবি এবং সাইবার মনিটরিং টিমের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য শনাক্তকরণ, তথ্যের সত্যতা যাচাই, ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের উৎস চিহ্নিতকরণ, দ্রুত তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বিশেষ করে দুর্গাপূজা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, পূজামণ্ডপ এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একইসঙ্গে পুরোনো বা ভিন্ন ঘটনার ছবি-ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রচেষ্টা শনাক্তকরণ এবং ধর্মীয় উসকানি বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কাযুক্ত কনটেন্টকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় পুলিশ সুপার দ্রুততম সময়ে গুজব শনাক্তকরণ → তথ্য যাচাই → ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ → প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কাউন্টার ন্যারেটিভ প্রচার—এই সমন্বিত কার্যক্রম নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্টের লিংক, স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট আইডি/পেজ, সময় এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় আরও নির্দেশনা দেওয়া হয়, কোনো ঘটনা বা তথ্য নজরে আসার পর সংশ্লিষ্ট থানা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে হবে। যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে জনসাধারণের বিভ্রান্তি নিরসনে সংক্ষিপ্ত, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী কাউন্টার ন্যারেটিভ প্রচার করতে হবে। একইসঙ্গে থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থার মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য, ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কোনো কনটেন্টে অপরাধের উপাদান পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, গুজব ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা শনাক্ত করা, দ্রুততম সময়ে সত্যতা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।