বাংলামোটরে চাঁদা দাবির অভিযোগে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সাইমনসহ ৪ জন রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং টাকা না দেওয়ায় মারধর ও গুলি ছোড়ার অভিযোগে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনসহ চারজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান শুনানি শেষে সাইমনের চার দিনের এবং মামলার অপর তিন আসামি ওমর, মোর্শেদ ও মো. শাওনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার এসআই মো. নাসিম চার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সাইমনের চার দিন এবং অপর তিন আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশের রিমান্ড আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে হাতিরঝিল থানার বাংলামোটর এলাকার নিউ ইস্কাটনে একটি বাসার সামনে মো. সোহানের পথরোধ করেন আসামিরা। এ সময় সাইমন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, সোহান টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন পিস্তল বের করে তার বুকের দিকে তাক করেন এবং গুলি করার চেষ্টা করেন। পরে পিস্তলের বাঁট দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করা হয়। এ সময় অন্য আসামিরাও তাকে মারধর করেন।

একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা সেখান থেকে চলে যান। আহত সোহান কাছের একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে তার ভগ্নিপতি মো. মোক্তার হোসেন সেখানে উপস্থিত হন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কিছুক্ষণ পর সাইমনসহ অন্যরা মোটরসাইকেলে করে সেখানে ফিরে এসে আবারও সোহানকে মারধরের চেষ্টা করেন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মোক্তার হোসেনকেও মারধর করা হয়।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় সাইমন পিস্তল দিয়ে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে তাদের ধাওয়া করেন। পরে কয়েকজনকে আটক করা হয়। পালানোর সময় সাইমনও আটক হন। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।

এ ঘটনায় পরে সোহান বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন। মামলায় সাইমন, ওমর, মোর্শেদ ও শাওনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার ব্যক্তিদের সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কারা জড়িত, পলাতকদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং মামলার অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়েছে, গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল ও কলাবাগান থানায় বিভিন্ন মাদকসংক্রান্ত মামলাও রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *