নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর পল্টন এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত, পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত এবং পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় ফুটপাতের ওপর অবৈধভাবে স্থাপিত দোকানপাট, পসরা ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নিয়ে জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
রোববার (৪ অক্টোবর) পল্টন থানাধীন বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। একই সঙ্গে সড়কের আশপাশে বৃক্ষরোপণ করে পরিবেশ রক্ষার বার্তাও দেন নেতাকর্মীরা।
‘ফুটপাত কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়’
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পল্টন থানার সাবেক সভাপতি লোকমান হোসেন পকির, পল্টন থানার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সভাপতি পদপ্রার্থী লিয়ন হক রায়হান, পল্টন থানা যুবদলের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি পদপ্রার্থী ওমর ফারুক মুন্না এবং এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক আলামিন। এ ছাড়া পল্টন থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
নেতাকর্মীরা বলেন, ফুটপাত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য নির্মিত জনসাধারণের পথ। তাই ফুটপাত দখল করে দোকান, পসরা, নির্মাণসামগ্রী কিংবা অন্য কোনো স্থাপনা রেখে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়।
তাঁরা পল্টন থানাধীন বিভিন্ন সড়কের পাশে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা বা অন্য কোনো কার্যক্রম পরিচালনাকারীদের প্রতি মার্জিত ভাষায় ফুটপাত ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ফুটপাতের ওপর কোনো স্থাপনা বা মালামাল রেখে পথচারীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি না করতে সবাইকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ করেন।
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা
নেতাকর্মীরা আরও বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার নামে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি চাঁদা বা অর্থ দাবি করে, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের জানাতে হবে। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তার দায় বিএনপি নেবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তাঁরা জানান।
রাজধানীর ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের পর আবার ফুটপাত দখলের ঘটনা ঘটছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।�
সবুজ ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার আহ্বান
নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি সড়কের পাশে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা হলে নগরের সৌন্দর্য বাড়বে এবং পরিবেশও কিছুটা ভারসাম্য ফিরে পাবে। তবে বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রেও পথচারীদের চলাচল, যানবাহনের নিরাপত্তা এবং নগর ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তাঁরা বলেন, দখলমুক্ত ফুটপাত মানে শুধু অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া নয়; এর সঙ্গে জড়িত পথচারীর অধিকার, নগরের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ চলাচল। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ সময় পল্টন এলাকার ফুটপাত পরিচ্ছন্ন রাখা, নির্ধারিত স্থান ছাড়া যত্রতত্র পণ্যসামগ্রী না রাখা, পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করা এবং পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তুলতে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়।
জনগণের চলাচলের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব
নেতাকর্মীরা বলেন, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় না দিয়ে জনগণের চলাচলের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি বা কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
পল্টনকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও দখলমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।
সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকও পর্যায়ক্রমে রাজধানীর সব ফুটপাত দখলমুক্ত করার কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানেই অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে।