সাতকানিয়ার এএসপি সার্কেল ও লোহাগাড়া থানার সীমান্ত নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্য!

* পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিচারেধীন অভিযোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন সাতকানিয়ার সার্কেল।
* পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ নীরব।
* এধরনের কর্মকাণ্ডে পুলিশের উপর আস্থা হারাচ্ছে দেশের সাধারণ জনগণ!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আ. লীগের দোষর চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক সীমান্ত পোদ্দার নামে এক এসআই ও সাতকানিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সার্কেল এর বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায় আধুনগর সরদানি পাড়া সৌদিয়া প্রবাসী একরামুল হকের স্ত্রী কামরুন্নাহার রাসনা নামে এক গৃহবধূ স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসী জাহেদ হোসেন সহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি, শ্লীলতাহানি, মারধর ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে চট্টগ্রাম আদালতে সিআর ৬৬৪/২৫ নং দায়ের করা মামলায় লোহাগাড়া থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সীমান্ত পোদ্দার আসামী জাহেদ হোছেনের থেকে ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ ও উপঢৌকন নিয়ে আসামী পক্ষে অবলম্বন করে সিআর ৬৬৪/২৫ইং মামলার চাঁদাবাজি, শ্লীলতাহানি ও অপহরণের চেষ্টার ৩৮৫, ৩৫৪, ৩৬৪ ধারা ও ভয়ংকর সন্ত্রাসী ৪ আসামী বাদ দিয়ে জামিন যোগ্য নরমাল ধারা দিয়ে গত ২৬ আগস্ট গোপনে সাতকানিয়া সার্কেল বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। এসআই সীমান্ত পোদ্দারের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সাতকানিয়া সার্কেলের সন্দেহ হলে সাতকানিয়া সার্কেল গত ১ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী গৃহবধূ রাসনার মোবাইলে ফোন করে সিআর ৬৬৪/২৫ইং মামলার স্বাক্ষীদের নিয়ে রাসনাকে গত ৫ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া সার্কেল অফিসে তলব করে। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাসনা সিআর ৬৬৪/২৫ মামলার সাক্ষীসহ স্থানীয় অন্তত ১২ জন গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে এসআই সীমান্ত পোদ্দারের ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ ও উপঢৌকন নিয়ে আসামীদের পক্ষে অবলম্বন করা সহ বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এবং সিআর ৬৬৪/২৫ইং মামলা নিরপেক্ষ অফিসার দ্বারা তদন্ত করতে সাতকানিয়া সার্কেল বরাবর মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করে। সার্কেলের অফিসের ইখতিয়ার নামে এক সহকারী এ অভিযোগ গ্রহণ না করে মোবাইলের মাধ্যমে ছবি তুলে রাখেন এবং সার্কেল নিজেই অভিযোগটি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করার জন্য পরামর্শ দেয়। সার্কেল আশ্বস্ত করে বলেন যে, এসআই সীমান্ত পোদ্দারের উল্লেখিত দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সিআর ৬৬৪/২৫ নং মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নিরপেক্ষ অফিসার দ্বারা তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হইবে বলেন। ইতিমধ্যে এসআই সীমান্ত পোদ্দার খবর পেয়ে মামলার আসামী জাহেদ হোছেন থেকে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে সার্কেল অফিসারকে এ ৫ লক্ষ টাকা ঘুস দিয়ে ম‍্যানেজ করেন।
এসআই সীমান্ত পোদ্দারের ২০ লক্ষ টাকাসহ বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে গৃহবধূ রাসনা গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর  চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার, ডিআইজি ও আইজিপি, আইজিপি কমপ্লেইন সেল সহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবর অভিযোগ দায়ের করে। অনুলিপির মাধ্যমে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি, ওসি তদন্ত, সাতকানিয়া সার্কেল সহ সংশ্লিষ্টদের অবগত করে। এ অভিযোগের বিষয়ে সাতকানিয়া সার্কেল অবগত হওয়ারপর এসআই সীমান্ত পোদ্দারের অনিয়মের বিষয়ে তাকে বাঁচানোর জন‍্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তারেই ধারাবাহিকতায় সাতকানিয়া সার্কেল তাহার অফিস সহকারী ইখতিয়ারের মাধ্যমে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাসনাকে ফোন করে বলেন কামরুন্নাহার রাসনা আপনাকে সার্কেল স‍্যার বলতে বলেছে যে, এসআই সীমান্ত পোদ্দারের নামে আইজিপি, ‘আইজিপি’স কমপ্লেইন সেল’ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অভিযোগ গুলো প্রত্যাহার করে নিতে এবং সিআর ৬৬৪/২৫ নং মামলার ৪ আসামীকে সংযুক্ত করে এসআই সীমান্ত পোদ্দারকে দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে বলে প্রস্তাব দেন।
সাতকানিয়া সার্কেলের এ ধরনের প্রস্তাবে রাসনা রাজি না হয়ে অভিযোগের আলোকে এসআই সীমান্ত পোদ্দারের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ন‍্যায়বিচার দাবি করে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দপ্তরের রাসনার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার স্বার্থে সাতকানিয়া সার্কেল বরাবর পাঠানো হয়। এবিষয়ে রাসনা সার্কেল অফিসারের সাথে বহুবার যোগাযোগ করা হলেও কোন সাড়া মেলেনি।
এদিকে সাতকানিয়া সার্কেল ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে
আইজিপি, ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও ‘আইজিপি’স কমপ্লেইন সেল’ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দপ্তরে বিচারধীন অভিযোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর আইন বহির্ভূতভাবে সাজানো মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছে বলে জানাযায়। এসআই সীমান্ত পোদ্দার তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ দ্রুত প্রত্যাহার না করলে রাসনা ও তার স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদেরকে দেশের বিভিন্ন থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করাসহ সিআর ৬৬৪/২৫ নং মামলার সন্ত্রাসী আসামীদের মাধ্যমে মৃত্যুর হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। আরো জানাযায় সাতকানিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি), সার্কেল মোঃ আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী ও লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সীমান্ত পোদ্দার পৃর্বে ছাত্রলীগ ছিলেন বিধায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশের চাকরিতে নিয়েগ প্রাপ্ত হয়। আ.লীগ সরকারের আমলে অনেক নিরীহ অসহায় মানুষকে মিথ্যা রাজনৈতিক মামলা দিয়ে হয়রানি করারও তথ্য পাওয়া যায়।এছাড়াও সিআর ৬৬৪/২৫ নং মামলার আসামীরা লোহাগাড়া উপজেলার আ. লীগের সন্ত্রাসী নেতা কর্মী। এদিকে আ.আওয়ামীলীগের দোসর  আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা জাহেদ হোছেন নিজের ভয়াবহ অপরাধের কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দিতে মোটা অংকের ঘুষের উপর ঘুস দিয়ে যাচ্চে। এবিষয়ে জানতে সাতকানিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সার্কেল কে একাধিকবার ফোন করা হলেও কোন সাড়া মেলেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *