অনলাইন ডেস্ক:
সংসার জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না ও নানা ব্যস্ততার মধ্যে যে মানুষটি নীরবে পাশে থাকেন, তিনি জীবনসঙ্গী। দৈনন্দিন কাজের চাপ, পরিবারের দায়িত্ব এবং সময়ের ব্যস্ততায় অনেক সময় প্রিয় মানুষটির প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার কথাগুলো মুখে বলা হয়ে ওঠে না। সেই অনুভূতিগুলো প্রকাশের একটি বিশেষ উপলক্ষ হলো ‘স্ত্রীকে প্রশংসা করার দিন’ বা ‘ওয়াইফ অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে’।
সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে স্ত্রীকে প্রশংসা করার বিশেষ দিন হিসেবে উদযাপন করা হয়। দিনটি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি বিশেষ তারিখ নয়; বরং দাম্পত্য জীবনের নানা ছোট ছোট মুহূর্তকে নতুন করে স্মরণ করা এবং জীবনসঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রকাশের একটি সুযোগ।
সংসার জীবনে প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজের মধ্যেও ভালোবাসার প্রকাশ থাকে। পরিবারের সদস্যদের যত্ন নেওয়া, নানা দায়িত্ব সামলানো কিংবা কঠিন সময়ে সঙ্গীকে সাহস দেওয়ার মতো কাজগুলো অনেক সময় চোখে পড়ে না। এসব প্রচেষ্টার জন্য জীবনসঙ্গীকে ধন্যবাদ জানানো তাই নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং সম্পর্কের প্রতি আন্তরিকতার প্রকাশ।
গবেষণায় দেখা যায়, সঙ্গীর কাজের স্বীকৃতি বা প্রশংসা তার মধ্যে আনন্দ ও ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করতে পারে। পারস্পরিক প্রশংসা ও স্বীকৃতি দাম্পত্য সম্পর্কের আত্মিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে। তাই ভালোবাসার মানুষটির প্রতি মনের কথা প্রকাশ করার জন্য বিশেষ কোনো বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই।
খুব সাধারণভাবেই দিনের শুরুতে কিংবা সুবিধাজনক সময়ে স্ত্রীকে বলা যেতে পারে, তিনি কীভাবে আপনার জীবনকে সুন্দর ও পূর্ণ করে তুলছেন। তার দায়িত্বশীলতা, যত্ন, দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা ব্যক্তিত্বের কোনো ভালো দিকের প্রশংসা করেও তাকে আনন্দ দেওয়া সম্ভব।
প্রশংসার পাশাপাশি ছোট্ট কোনো উপহার বা ভালোবাসার স্মৃতিও দিনটিকে বিশেষ করে তুলতে পারে। তবে এর জন্য ব্যয়বহুল আয়োজন জরুরি নয়। আন্তরিকতার সঙ্গে বলা কয়েকটি সুন্দর কথা কিংবা একসঙ্গে কাটানো কোনো স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে মূল্যবান উপহার।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে হাতে লেখা চিঠির আবেদনও আলাদা। একটি সুন্দর কাগজ বা ডায়েরিতে নিজের মনের কথা কয়েকটি লাইনে লিখে স্ত্রীকে দেওয়া যেতে পারে। সেখানে থাকতে পারে একসঙ্গে কাটানো সুন্দর সময়ের স্মৃতি, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে পথচলার প্রত্যাশা।
দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিনের অপেক্ষা না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিশেষ দিনগুলো সেই অনুভূতিগুলো প্রকাশের একটি উপলক্ষ তৈরি করে। তাই আজকের দিনটিকে কেন্দ্র করে প্রিয় জীবনসঙ্গীকে একটু সময় দেওয়া, তার প্রশংসা করা এবং মনের কথাগুলো বলা যেত