ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজপথে পিটিআই, ব্যর্থ সরকারের সঙ্গে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে রাজপথে নামছে দলটির নেতাকর্মীরা। সরকারের সঙ্গে দুই দফা আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর পূর্বঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিটিআই।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দ্বিতীয় দফায় সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়। তবে ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের প্রবেশাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। পরে পিটিআই জানিয়ে দেয়, ৪ অক্টোবরের লংমার্চ কর্মসূচি বহাল থাকবে।

রোববার (৪ অক্টোবর) খাইবার পাখতুনখাওয়ার লাক্কি মারওয়াত থেকে লংমার্চের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে। পিটিআইয়ের কর্মী-সমর্থকেরা রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। দলটির কর্মসূচির মূল দাবি ইমরান খানের মুক্তি।

আলোচনায় পিটিআইয়ের অন্যতম দাবি ছিল ইমরান খানের সঙ্গে তাৎক্ষণিক সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া এবং তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা, যাতে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা দিতে পারেন। অন্যদিকে সরকার পিটিআইকে আগে লংমার্চ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার শর্ত দেয়। এ নিয়েই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়।

পিটিআই নেতারা জানান, ইমরানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত লংমার্চ প্রত্যাহারের বিষয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। ফলে কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পরও সমঝোতা হয়নি।

এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছিল পিটিআই। পরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজধানীতে ব্যাপক প্রস্তুতির কারণে কর্মসূচি পিছিয়ে ৪ অক্টোবর করা হয়। ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে কনটেইনার বসিয়ে প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ।

ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে সাজা হয়েছে; তার দল এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। ইমরানকে ঘিরে পিটিআইয়ের এই কর্মসূচি পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *