নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে টানা আন্দোলনে একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। চলমান অচলাবস্থা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ক্যাবের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও মহানগর নেতারা এ দাবি জানান।
ক্যাব নেতারা বলেন, চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় সরিয়ে দিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন।
দীর্ঘ আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন বিভাগের একাধিক বর্ষ ও সেমিস্টারের পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন ক্যাব নেতারা।
তাদের ভাষ্য, আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্যাব নেতারা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের ভূমিকার প্রশংসা করে ক্যাব নেতারা বলেন, তিনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন। বিভিন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগের ফলে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।
অধ্যাপক সায়েমকে ৫৬ দিনের মাথায় কোনো কারণ না দেখিয়ে অপসারণ করা হয়েছে এবং দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থানকালে তাকে না জানিয়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও করেন ক্যাব নেতারা। তাদের মতে, উপাচার্য নিয়োগ ও পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।
এদিকে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে এখনো ক্যাম্পাসে গিয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি অনলাইনে যোগদান করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।
ক্যাব নেতারা বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধা, জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে চুয়েটের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত চালু করতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, মহানগর সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম জাহাঙ্গীর এবং যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আবু হানিফ নোমান।
চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। ৩ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলনের ১২তম দিনেও ক্লাস-পরীক্ষাসহ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকার খবর পাওয়া যায়।