নতুন ব্রিজ এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরির অভিযোগ, নীরব ভোক্তা অধিকার

কামরুল ইসলাম:

চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকায় অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যসামগ্রী তৈরির অভিযোগ উঠেছে ‘রুটির স্বাদ’ নামের একটি বেকারির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেকারিটিতে অপরিষ্কার পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী তৈরি করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ একটি জনবহুল এলাকা। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা যাতায়াত করেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে ‘রুটির স্বাদ’ বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যসামগ্রী তৈরির অভিযোগ থাকলেও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের।

বিস্তারিত জানতে গিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বাকলিয়া থানার আওতাধীন নতুন ব্রিজ এলাকায় অবস্থিত ‘রুটির স্বাদ’ বেকারিতে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যসামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্য তৈরিতে ভেজাল ময়দা এবং মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও অননুমোদিত রং ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন দৈনিক স্বাধীন সংবাদ ও দৈনিক বাংলাদেশ পত্রিকার চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কামরুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় জনসাধারণ বেকারিটির পরিবেশ ও খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘রুটির স্বাদ’ বেকারিতে দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্য তৈরিতে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও অননুমোদিত রং ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

খবর পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিককে সঙ্গে নিয়ে বেকারিটিতে পর্যবেক্ষণ চালানো হয় বলে জানান সাংবাদিক কামরুল ইসলাম। তার দাবি, পর্যবেক্ষণের সময় স্থানীয়দের করা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

সাংবাদিক কামরুল ইসলাম বলেন, খাদ্য প্রস্তুতকারীদের অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য তৈরি ও বিক্রি করতে হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আইন ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ‘রুটির স্বাদ’ বেকারির পরিচালক খাদ্যসামগ্রী তৈরি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিএসটিআই এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ ও ক্রেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *