নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় মাদক ব্যবসা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গ্রামজুড়ে আতঙ্ক

নাছিমা খাতুন সুলতানা:

নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার সানন্দিকোনা ইউনিয়নের চেংদনা গ্রামে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে অভিযুক্ত মোঃ তোফাজ্জল হোসেন ওরফে সোনু (পিতা— তোতা মিয়া) এর নেতৃত্বে সংঘটিত একাধিক হামলায় গ্রামজুড়ে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে একই গ্রামের মৃত খদে নেওয়াজের ছেলে মোঃ হুমায়ূন মিয়ার কাছে অভিযুক্ত সোনু মিয়ার ৪০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। ওই দিন সোনু মিয়া এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা ফেরত দেন এবং অবশিষ্ট টাকা পরবর্তীতে পরিশোধ করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও বাকি টাকা পরিশোধ না করায় টাকা চাইতে গেলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার জেরে পাওনাদারের চাচা নয় বালিকে বাজারে তার দোকানে গিয়ে সোনু মিয়া ও তার সহযোগীরা হামলা ও মারধর করে। এতে পুরো গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মাতব্বররা এগিয়ে আসেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, এতে থেমে না থেকে সোনু মিয়া তার লোকজন নিয়ে পরিকল্পিতভাবে পুনরায় হামলা চালায়। এ সময় গ্রামের প্রবীণ মাতব্বর মোঃ মতিউর রহমান গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি মাথা ও দাঁতের গুরুতর আঘাত নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও হামলাকারীরা মোঃ হুমায়ূন মিয়ার বসত ঘরে ভাঙচুর ও হামলা চালায়, যা এলাকায় আরও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার পর ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে গ্রামবাসী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সোনু মিয়া এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

একাধিক ভুক্তভোগী জানান, সোনু মিয়ার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে তারা ভয় পান। কারণ তার রয়েছে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া। ফলে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

এ ঘটনায় আহত ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও মাদক ব্যবসা নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

চলবে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *