মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানা এলাকায় মাদক নির্মূলে পরিচালিত যৌথ অভিযানে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার করা ৪০০ গ্রাম গাঁজা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় ফতুল্লা মডেল থানাধীন মধ্য নরসিংহপুর, দক্ষিণ মাসদাইর ও গলাচিপা এলাকায় এ যৌথ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অংশ নেয় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।
অভিযান চলাকালে মোট পাঁচজন মাদকসেবীকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনজনকে দণ্ড প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারিফ আল তাওহিদ।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মো. ওয়াহিদুজ্জামান অনিক (৩৫), পিতা: মৃত ওমর আলী, মাসদাইর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। তাকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া মো. রাব্বি (১৮), পিতা: মনির হোসেন, আমতলা, এনায়েতনগর, ফতুল্লা এবং মোহাম্মদ সামিউল (১৮), পিতা: মোহাম্মদ জয়নাল, আমতলা, এনায়েতনগর, ফতুল্লাকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
জানা যায়, ইয়াবা সেবনের অপরাধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
এদিকে অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৪০০ গ্রাম গাঁজা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অপরদিকে, অভিযানে আটক হওয়া আরও দুইজন— আব্দুস সালাম (৩২), পিতা: মোহাম্মদ আলী, নরসিংহপুর শামসুল আলমের মোড় এবং সাদ্দাম (১৫), পিতা: সঞ্জু মিয়া, মাসদাইর পাকাপোল, ফতুল্লা—কে ফতুল্লা মডেল থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরদিন আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. শামীম হোসাইন, ফতুল্লা মডেল থানার একটি আভিযানিক দল, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং পুলিশ লাইনস থেকে আগত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এ ধরনের যৌথ অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় ভবিষ্যতেও আরও কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।