বরাদ্দগ্রহিতাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ে প্রতিমন্ত্রী, ‘দেরি নয়, এবার কাজ’ বার্তা সরকারের

মোঃ আনজার শাহ:

রাজধানীর ক্রমবর্ধমান জনচাপ সামলাতে এবং পরিকল্পিত নগরজীবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে দীর্ঘদিন ধরে চলমান পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে এবার পূর্ণ গতিতে বাস্তবে রূপ দিতে মাঠে নেমেছে সরকার। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অডিটোরিয়ামে প্রশাসনিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক প্লটের বরাদ্দগ্রহিতাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় মিলিত হন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম।

নগরায়ণ আর ফাইলবন্দি থাকবে না

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, “পূর্বাচল শুধু একটি আবাসন প্রকল্প নয়—এটি আগামীর ঢাকার হৃদয়। এই শহর যদি পরিকল্পনামাফিক গড়ে না ওঠে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। বরাদ্দ পেয়ে যারা বছরের পর বছর নির্মাণকাজ শুরু করেননি, তাদের জন্য আজকের বৈঠক একটি স্পষ্ট বার্তা—সরকার এবার আর অপেক্ষা করবে না।”

তিনি আরও জানান, প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক প্লটগুলোতে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হলে এলাকায় কর্মসংস্থান তৈরি হবে, জনবসতি ঘনীভূত হবে এবং পূর্বাচলকেন্দ্রিক একটি পূর্ণাঙ্গ শহুরে বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠবে।

রাজউক চেয়ারম্যানের তিন-স্তরের রূপরেখা

সভায় রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম জানান, নগরায়ণ ত্বরান্বিত করতে রাজউক তিনটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র নির্ধারণ করেছে। প্রথমত, প্রশাসনিক প্লটে সরকারি অফিস স্থানান্তর প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা; দ্বিতীয়ত, বাণিজ্যিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের জন্য এককেন্দ্রিক অনুমোদন সেবা চালু করা; এবং তৃতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক বরাদ্দগ্রহিতাদের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্মাণ শুরু করার বাধ্যবাধকতার আওতায় আনা।

তিনি বলেন, “যাদের বরাদ্দ আছে কিন্তু কাজ নেই, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান দিতে আমরা প্রস্তুত। তবে দীর্ঘসূত্রতা আর চলবে না।”

পূর্বাচল প্রকল্পের প্রেক্ষাপট

প্রায় ৬,২০০ হেক্টর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প রাজধানীর পূর্বদিকে একটি পরিকল্পিত উপশহর হিসেবে নির্মিত হচ্ছে, যেখানে ৩০টি সেক্টরে আবাসিক, বাণিজ্যিক, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক এলাকা রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও প্রস্তাবিত মেট্রোরেল সংযোগের কারণে এর ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। তবে বরাদ্দের দীর্ঘসূত্রতা, নির্মাণে অনীহা এবং অবকাঠামো বিলম্বের কারণে প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি বলে সংশ্লিষ্ট মহলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।

বরাদ্দগ্রহিতাদের প্রতিক্রিয়া

সভায় উপস্থিত কয়েকজন বরাদ্দগ্রহিতা জানান, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অপ্রতুলতা নির্মাণকাজ বিলম্বের অন্যতম কারণ। তারা প্রতিমন্ত্রীর কাছে দ্রুত ইউটিলিটি সংযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধান দেওয়া হবে।

সভার শেষে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে প্রতিটি বরাদ্দগ্রহিতার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক নির্মাণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজউকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ ও প্রটোকল) মোঃ জোবায়দুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *