লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৪৪ জনকে গণদাফন করল হিজবুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় মাজদাল সেলম গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৪৪ জনের গণদাফন সম্পন্ন করেছে হিজবুল্লাহ। শনিবার অনুষ্ঠিত এই জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে শত শত মানুষ অংশ নেন। নিহতদের মধ্যে ৩৯ জন হিজবুল্লাহর যোদ্ধা এবং চারজন বেসামরিক নাগরিক ছিলেন। অপর একজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

ইরান-সমর্থিত শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ জানায়, ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহতদের নিজ নিজ এলাকায় দাফনের সুযোগ না থাকায় এতদিন তাদের অস্থায়ীভাবে সমাহিত করা হয়েছিল। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে গণদাফনের আয়োজন করা হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-এর একজন সংবাদদাতা জানান, কফিনবাহী ট্রাকগুলো কবরস্থানের দিকে যাওয়ার সময় শোকাহত নারীদের হাতে নিহত যোদ্ধাদের ছবি এবং ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতিকৃতি দেখা যায়। যুদ্ধের কারণে লেবাননের অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে স্বজনদের নিজ এলাকায় দাফন করতে পারেনি।

হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে নিহতদের ‘শহীদ’ উল্লেখ করে সমর্থকদের জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১২৯ জন নিহতের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়লেও মাজদাল সেলম পৌরসভা সেটিকে ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও উত্তেজনা

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সংঘাতে সাময়িক বিরতি চললেও বিভিন্ন এলাকায় নিহতদের দাফনের আয়োজন অব্যাহত রেখেছে হিজবুল্লাহ। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে সংগঠনটির মোট কতজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন। চলতি সপ্তাহে শেষ হওয়া ইসরায়েল-লেবানন আলোচনা শেষে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত এপ্রিল থেকে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়। গত ২৬ জুন উভয় পক্ষ একটি রূপরেখা চুক্তিতে পৌঁছায়। চুক্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করা। যদিও হিজবুল্লাহ শুরু থেকেই এ শর্ত এবং শান্তি চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ফলে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ চললেও অঞ্চলটিতে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

সূত্র: এএফপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *