শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী কালীবাড়ির নাটমন্দির দখলমুক্ত

আমির হোসেন:

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ঝালকাঠি শহরের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী রক্তকমলেশ্বর ও অপরাপর দেবদেবীর দেবোত্তর মন্দির কেন্দ্রীয় কালীবাড়ির নাটমন্দির দখলমুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে মন্দির কমিটি ও জেলা হিন্দু সমাজ। রবিবার (৪ অক্টোবর) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও জটিলতার কারণে ঐতিহ্যবাহী নাটমন্দিরটি ব্যবহারে সংকট তৈরি হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় সম্প্রতি নাটমন্দিরটি দখলমুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণু চন্দ্র ধর।

মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ স্বাস্থ্যসহকারী (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের নির্দেশনা এবং ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাত হোসেনের সহযোগিতায় নাটমন্দিরটি দখলমুক্ত করা হয়েছে। এ জন্য ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেনসহ জেলা বিএনপি পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে নাটমন্দিরটি দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়ায় শুরু থেকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করায় ঝালকাঠির অসাম্প্রদায়িক মুসলিম সমাজের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনে সবাইকে ঝালকাঠি কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দিরে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মন্দির কমিটি ও জেলা হিন্দু সমাজের নেতৃবৃন্দ। মন্দিরের নথি অনুযায়ী, শ্রী শ্রী রক্তকমলেশ্বর ও অপরাপর দেবদেবীর দেবোত্তর স্টেটের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দির ও ঠাকুরালয় দেবোত্তর এস্টেটের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। নথিতে মন্দিরটি ১১৮৮ বঙ্গাব্দ, অর্থাৎ ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত বলে উল্লেখ রয়েছে। মন্দিরটির কার্যালয় ঝালকাঠি শহরের কালীবাড়ি রোডে। এদিকে, শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ঝালকাঠির বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে প্রস্তুতি চলছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে উৎসব উদযাপনে সংশ্লিষ্টরা নানা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *