সবুজে ঘেরা লামা এখন পর্যটকদের স্বর্গরাজ্য, সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি

স্টাফ রিপোর্টার:

বান্দরবানের লামা উপজেলা এখন দেশের পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন ও উজ্জ্বল নাম। চোখ জুড়ানো সবুজ পাহাড়, মেঘের মিতালি আর নির্মল বাতাসের টানে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে ছুটে আসছেন হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু মানুষ। বিশেষ করে লামার মিরিঞ্জা ভ্যালি ও তার আশপাশের এলাকাগুলো এখন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্রমবর্ধমান পর্যটকদের আবাসন ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে লামায় ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে শতাধিক আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট। হোয়াইট পিক স্টেশন ও মেঘমায়া ইকো রিসোর্টের মতো নান্দনিক স্থাপনাগুলো পর্যটকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই পর্যটন বিকাশের ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসছে এবং তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন কর্মসংস্থান।

সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটকদের ঢল নামায় স্থানীয় হোটেল-রিসোর্ট মালিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে পর্যটন শিল্পের এই দ্রুত প্রসারের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কিছু উদ্বেগের বিষয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, লামার এই সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ ধরে রাখতে হলে নিয়মিত নজরদারি এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। রিসোর্টগুলোতে যেন কোনো ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ কিংবা মাদকের বিস্তার না ঘটে, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও রিসোর্ট মালিক সমিতিকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারী বর্ষণ ও পাহাড় ধসের ঝুঁকির কারণে স্থানীয় প্রশাসন বেশ কিছু রিসোর্ট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল, যা পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ। নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের ত্বরিত পদক্ষেপ পর্যটকদের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।

লামার পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, “আমরা চাই পর্যটকরা নিরাপদে আসুক এবং সুস্থ বিনোদন নিয়ে ফিরে যাক। রিসোর্ট মালিক সমিতি ও প্রশাসনের সঠিক সমন্বয় থাকলে লামা হবে দেশের সেরা একটি পর্যটন গন্তব্য।”

নজরদারি ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা গেলে লামা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি একটি আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *