মোঃআনজার শাহ
সরকারি দপ্তরের দরজায় দাঁড়িয়ে অনুমতির অপেক্ষা কিংবা জুতা খুলে ভেতরে ঢোকার চিরচেনা দৃশ্য ভেঙে দিয়েছেন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি। সাধারণ মানুষের জন্য নিজের কার্যালয়ের দরজা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি প্রশাসন ও জনগণের মাঝের দূরত্ব কমানোর এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের দরজায় ঝুলছে এক অভিনব নির্দেশনা। সেখানে লেখা রয়েছে ‘অফিসে প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতাসহ প্রবেশ করুন।’
অর্থাৎ ইউএনওর কক্ষে প্রবেশের আগে কাউকে আলাদা অনুমতি নিতে হবে না; এমনকি জুতা খুলে রাখারও প্রয়োজন নেই। ছোট্ট এই বার্তার মাধ্যমে সরকারি দপ্তরকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও উন্মুক্ত ও সহজলভ্য করার প্রত্যয় ফুটে উঠেছে।
উদ্যোগের পেছনের ভাবনা ব্যাখ্যা করে ইউএনও আসাদুজ্জামান রনি বলেন, ‘সরকারি দপ্তর মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য। সেবাপ্রত্যাশীরা যেন কোনো সংকোচ বা দ্বিধা ছাড়াই তাঁদের প্রয়োজনের কথা খোলামেলা জানাতে পারেন, সে জন্যই কার্যালয়ের সামনে এ বার্তা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কক্ষে আসতে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই, জুতা খুলেও প্রবেশ করতে হবে না। সবাই যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়া সহজে প্রশাসনের কাছে এসে সেবা নিতে পারেন এটাই আমার মূল প্রত্যাশা।’
উদ্যোগটি ইতিমধ্যে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কর্মকর্তাদের কাছে সহজে পৌঁছাতে না পেরে অনেক সময় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে দালালের দ্বারস্থ হন। তাঁর বিশ্বাস, ইউএনওর এই উদ্যোগ প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াবে।
আরেক বাসিন্দা আলমগীর হোসেন এটিকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, শৃঙ্খলা, নিয়মনীতি ও সৌজন্যবোধ বজায় রেখেই সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সহজ করা প্রয়োজন; জনসেবার ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগ সহজ করার এই পদক্ষেপ সেবা গ্রহণের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরুড়ার এই উদ্যোগ শুধু একটি সাইনবোর্ডের বার্তা নয়; এটি জনসেবামূলক প্রশাসনের মনোভাব ও জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থার প্রতি এক স্পষ্ট অঙ্গীকার হয়ে উঠেছে।