খুবি প্রতিনিধি:
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, একপর্যায়ে তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আরও লোকজন জড়ো করার চেষ্টা করা হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে সজল নামের এক ব্যক্তির একটি আপত্তিকর পোস্টকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, ওই ব্যক্তি নিজেকে বিএল কলেজের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। পোস্টটি সত্য কি না এবং ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে খাজা গেট এলাকায় ডেকে আনেন।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিনুল হক আবিরের ভাষ্য, সজলকে নিয়ে আসার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দেন। তারা নিজেদের বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল কিংবা স্থানীয় ট্রাকস্ট্যান্ডের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বিতর্কিত পোস্টটি তাদের সামনে পড়ে শোনানো হলে স্থানীয় কয়েকজন ওই যুবককে মারধর শুরু করেন।
মাহিনুল হক আবির বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়সংক্রান্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা চেয়েছিলেন, এর সমাধান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমেই হোক। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে শিক্ষার্থীরা ওই যুবককে উদ্ধার করে ক্যাম্পাসের ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দেন।
আর্কিটেকচার ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ রাতুল বলেন, পোস্টটি নিয়ে কথা বলার সময় স্থানীয় দুই-তিনজন মুরুব্বি সেখানে ছিলেন। পরে তাদের খাজা গেটে আসতে বলা হলে অভিযুক্ত যুবকসহ তারা সেখানে আসেন। কথা বলার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে থাকা দুজন ওই যুবককে মারধর শুরু করেন।
তার ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা মারধর থামিয়ে যুবকটিকে ক্যাম্পাসের ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করলে বাইরে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি গেটে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে গেট কিছুটা ফাঁকা করে ওই যুবককে টেনে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় তাকে পুনরায় ধরে এনে ডিএসএর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, সজলের মোবাইল ফোনে মাদকসংক্রান্ত কথোপকথন ও বার্তার তথ্য পাওয়া যায়। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দা বাবু, মনিরুজ্জামান লেলিন ও রহিমের নেতৃত্বে আরও কিছু লোক সেখানে আসেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
তাদের অভিযোগ, ওই যুবককে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে শিক্ষার্থীরা তাকে ফিরিয়ে এনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আসা লোকজন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, তাদের ওপর হামলার জন্য মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করার চেষ্টা করা হয়। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনায় কয়েকজন আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে তারা জানান। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। কিছুক্ষণ পর তারা একত্রিত হয়ে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে সেখানে থাকা লোকজন সরে যায়।
এদিকে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া সজলকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। শিক্ষার্থীদের ওপর এভাবে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করার সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও পুলিশকে বলা হয়েছে।
খুলনা থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।