গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে চাকরিতে নিয়োগে অনিয়ম, পরোক্ষভাবে ঠিকাদারি ব্যবসায় সম্পৃক্ততা, ঠিকাদার সিন্ডিকেট পরিচালনা, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন করেছেন ইকবাল আরসালান নামের এক ব্যক্তি।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্লট, ফ্ল্যাট, গাড়ি, খামার, ব্যাংক ব্যালেন্সসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগকারীর দাবি, এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য অন্তত ২০ কোটি টাকা এবং তা তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। জাহাঙ্গীর আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য অনুসন্ধান করলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, জাহাঙ্গীর আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের আয়কর নথিতে সম্পদের তথ্য গোপন করে আয়কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট অথবা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

চাকরিতে নিয়োগের বিষয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিসিএস পরীক্ষার পরিবর্তে বিশেষ প্রক্রিয়ায় কয়েকজনকে সরাসরি ষষ্ঠ গ্রেডে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলমও ছিলেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। এ ক্ষেত্রে তৎকালীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ওই নিয়োগ নিয়ে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তারা আদালতের আশ্রয় নেন এবং পরবর্তী সময়ে নিয়োগ ও পদ সংরক্ষণ নিয়ে আদালতের আদেশও আসে। অভিযোগকারীর দাবি, আদালতের আদেশের পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চাকরিতে বহাল রাখা এবং জ্যেষ্ঠতা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়। একই সময়ে জাহাঙ্গীর আলম অন্য একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকেও বেতন উত্তোলন করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ‘পিডব্লিউডি উড ডিভিশন’ ঘিরেও জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাঠ ও ফার্নিচার সংক্রান্ত কাজকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ ইউনিটে পদায়ন পেতে তিনি প্রভাব খাটিয়েছেন এবং ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে পদায়ন নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বড় অংকের প্রকল্পকে বিভক্ত করে কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ বণ্টন এবং অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম জড়িত। অভিযোগকারীর দাবি, কয়েকটি ফার্নিচার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তিনি নিয়মিত সমন্বয় করে কাজ বণ্টনে প্রভাব বিস্তার করতেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী দুদকের কাছে জাহাঙ্গীর আলমের নিয়োগ, সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি, দরপত্র প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি কার্যক্রম তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিশেষায়িত তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে।

তবে অভিযোগপত্রে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং আইনানুগ তদন্ত প্রয়োজন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলীদের বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *